সিসি ডেস্ক: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে স্থানান্তর হচ্ছে। নবনির্মিত কারাগার ভবন প্রায় প্রস্তুত। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে ১৭৮৮ সালে তৈরি হওয়া এই কারাগার শিগগির চলে যাবে ইতিহাসের পাতায়।
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, নাজিমউদ্দিন রোড থেকে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে স্থানান্তর করা হবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। তিনি বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের সময় বন্দী নারীদের গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে নেওয়া হবে। পরে তাঁদের কেরানীগঞ্জে নতুন কারা ভবনে আনা হবে।
অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে ১৯৪ একরের বেশি জমিতে তৈরি হয়েছে নতুন কারাগার। এর মধ্যে ৩০ একর জমিতে বন্দীদের জন্য ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এসব ভবনে চার হাজার পুরুষ ও আলাদা ভবনে ২০০ নারী বন্দীর ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে আট হাজারের মতো বন্দী থাকতে পারবে। বর্তমান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৮২৬ জন, আছেন ৭ হাজার ৩০০ জন। এই কারাগারে ১৬০ জন নারী বন্দী আছেন।
নতুন কারা ভবনে বন্দী রাখার সেল, নিরাপত্তা টাওয়ার, ফাঁসির মঞ্চ থেকে শুরু করে কোনো কাজে যাতে ভুলত্রুটি না হয়, সে জন্য ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর প্রধান কারা উপমহাপরিদর্শক (কারা)। বর্তমান উপমহাপরিদর্শক গোলাম হায়দার বলেন, নতুন কারা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিক কমিটি গঠন করেছে। ৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাখাল চন্দ্র বিশ্বাসের নেতৃত্বে কমিটি নতুন কারা ভবন পরিদর্শন করে। কমিটি নির্মাণে কিছু ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে এবং এর সংস্কার চলছে।
সরেজমিনে নতুন কারা ভবন: বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-মাওয়া সড়কের বাঁ পাশে রাজেন্দ্রপুরে নতুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অবস্থান। ১৪ সেপ্টেম্বর গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চারদিকে সীমানাপ্রাচীর গড়ে তোলা হয়েছে। ভেতরে আটটি ছয়তলা ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিটি ভবন অন্তত ছয় ফুট উচ্চতার পৃথক সীমানা দেয়ালে ঘেরা। সেগুলোতে শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। পাশে আরও দুই ও চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। প্রতিটি ভবনের মেঝেতে ছয়টি করে বড় বড় কক্ষ রয়েছে।
নির্মাণশ্রমিক খোরশেদ আলম বলেন, একেকটি কক্ষের দৈর্ঘ্য ২০ হাত ও প্রস্থ ১০ হাতের মতো। একটি কক্ষের জন্য একটি বাথরুম ও বাথরুমের পাশেই হাত-পা ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এগুলোকে সেল হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
সীমানাপ্রাচীরের বিভিন্ন স্থানে ৪০ ফুট উঁচু চারটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে। কারা কর্মকর্তারা বলছেন, ওই টাওয়ার থেকে পুরো কারাগারের চিত্র দেখা যাবে। কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, আটটি ছয়তলা ভবনের মাঝে বিশাল মাঠ। এই মাঠের মাঝে বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদের ছোট্ট একটি ঘর।
নির্মাণ সরদার ও কারাগারের নিরাপত্তাকর্মী বিশাল হোসেন বলেন, দুর্ধর্ষ জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের রাখার জন্য চারটি চারতলা কারা ভবন (ডেঞ্জার সেল) নির্মাণের কাজ চলছে। ডেঞ্জার সেলের তিন নম্বর ভবনের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে টিনশেডের একতলা ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। এর দক্ষিণে ওয়ার্কশপ, লন্ড্রি, সেলুন, গুদাম ও গম থেকে আটা তৈরির কারখানা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।
নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার আবদুস জাহির বলেন, ১০০ কিশোর বন্দী ও ৩০ জন মানসিক ভারসাম্যহীন বন্দীকে রাখার উপযোগী আলাদা সেলের নির্মাণ শেষ হয়েছে। বন্দীদের ভবনের সীমানাপ্রাচীরের পাশে তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কারাগার চত্বরে এক হাজার কারারক্ষী থাকার উপযোগী ব্যারাক নির্মাণের কাজও শেষ।
কারাগারের বাইরে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের জন্য আলাদা ভবন, অফিসার্স ক্লাব, স্টাফ ক্লাব, স্কুল, মসজিদ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সভার জন্য মিলনায়তন নির্মাণ করা হচ্ছে।