সিসি ডেস্ক: সংসদীয় কমিটির আড়ালে এমপিদের অনাবশ্যক বিদেশ সফর ঠেকাতে নতুন নীতিমালা হচ্ছে। সরকারি খরচে শৃঙ্খলা ও এমপিদের বিদেশ সফরে সমন্বয় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীতিমালা কার্যকর হলে মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে সংসদ সচিবালয় থেকে এমপিদের বিদেশ সফরে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া হবে। এ জন্য সংসদের বাজেটে অর্থ বরাদ্দ থাকবে। ফলে বিদেশ সফরের জন্য কমিটির সদস্য হিসেবে এমপিদের আর মন্ত্রণালয়ের কাছে ধরনা দিতে হবে না। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিতে আপস করাও লাগবে না।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ঈদের ছুটির আগেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুুল মুহিত এ ধরনের একটি চিঠি পাঠিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে। ওই চিঠিতে লিখিত প্রস্তাবের আলোকেই নীতিমালা তৈরি হচ্ছে বলে জানান সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আশরাফুল মকবুল।
সংসদ-সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের লোকসভা ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটেও এমপিদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতাকে অনুসরণ করেই সংসদ সচিবালয় এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা তৈরির কাজ শুরু করেছে। এতে একজন এমপি সরকারি খরচে বছরে দুই থেকে তিনবার সফর এবং সর্বোচ্চ ১০ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকতে পারবেন না। শুধু বিদেশে নয়, দেশের মধ্যেও সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে এমপিদের পরিদর্শন বা সফরে খরচের টাকা আর মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হবে না। সংসদ সচিবালয়ের কমিটি সাপোর্ট (সিএস) উইং থেকেই অর্থ সরবরাহ করা হবে।
দশম সংসদের শুরু থেকেই স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে এমপিদের বিদেশ সফর নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। ৫১টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিটির সদস্য এক বা একাধিকবার নানা অজুহাতে বিদেশ সফরে গেছেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে কমিটি সদস্যদের ‘বিদেশ সফরের ইস্যুটি’ অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে রাখতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নবম সংসদে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলেও চলতি সংসদের কমিটিগুলো অনেকাংশেই নীরবতা অবলম্বনের নীতিতে চলছে। বিনিময়ে মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থাসহ নানা সুবিধা পাচ্ছেন এমপিরা। নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ সফরের পরে দেশে ফিরে কমিটি সদস্যদের রিপোর্ট করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিয়ে তাদের সুপারিশ বা পরামর্শ দেওয়ার কথা। তবে সফর থেকে ফিরে কার্যকর কোনো সুপারিশ বা পরামর্শ দেওয়ার নজির নেই।
স্পিকারের দপ্তর থেকে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুুল মুহিতের লেখা চিঠি ১৬ সেপ্টেম্বর স্পিকারের দপ্তরে পেঁৗছেছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ওই চিঠি সংসদ সচিবের কাছে পাঠিয়ে দেন। এর আগে একই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও একটি চিঠি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা ওই চিঠির একটি কপি স্পিকারকে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী তার চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এমপিদের বিদেশ সফরের অর্থছাড় করার ফলে আর্থিক শৃঙ্খলা বিঘি্নত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশ সফর আয়োজনের ফলে সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমে জবাবদিহির ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও কমিটি সদস্যদের ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গ চলে আসে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিদেশ সফরের জন্য কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে টাকা বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়। অর্থমন্ত্রীর চিঠিতে এ বিষয়টি সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে সমন্বয় ও অর্থছাড় করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের উদাহরণ তুলে ধরে সেসব দেশে সরকারি খরচে এমপিদের সফর নিরুৎসাহিত করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফুল মকবুল বলেন, সংসদ সচিবালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর চিঠির আলোকেই প্রস্তাব তৈরি করে স্পিকারের দপ্তরে পাঠানো হবে। ৮ অক্টোবর স্পিকার দেশে ফিরবেন।