• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বিরলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন

Press Conf. Picদিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী ইউপি’র দূর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি ও অপকর্মের বিচার এবং ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ইউপি’র ৪ সদস্যসহ এলাকাবাসী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু আদর্শ বাস্তবায়ন লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজাহান আলী ঘুংরু। এ সময় পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবুল হোসেন, ইউপি সদস্য আজাহার আলী, আবুল হোনেস, মহিলা ইউপি সদস্য আঞ্জুয়ারা বেগমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ণিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পলাশবাড়ী ইউপি’র দূর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি ও অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরা আজ তার কুচক্রে’র রোষানলে পড়ে ভিটেমাটি ছাড়া হতে চলেছি। পবিত্র ঈদুল আজাহা’র ভিজিএফ’র চাউল বিতরণে চেয়ারম্যান মিজানুর অনিয়ন ও দূর্নীতি আশ্রয় নিলে আমরা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে তার প্রতিবাদ করায় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ২ ইউপি সদস্যসহ ৪জনকে এলোপাথারী পিটিয়েছে।
পবিত্র ঈদের আগের দিন অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে  ১০টায় পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চত্বরেই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে দূর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তার অপকর্ম ও দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে কুটকৌশলে লিপ্ত হয়েছে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দূর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনসহ ৪ ইউপিসহ ১০ নিরীহ এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দ ভিজিএফ’র চাউল ২২ ও ২৩ সেেেপ্টম্বও দু’দিন বিতরণ করে পলাশবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে অনেকে চাউলের প্রাপ্ত কার্ড নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে চাউল নিতে আসলেও চাউল বিতরণ শেষ এবং আর চাউল নেই বলে চেয়ারম্যান মিজানুর এবং তার লোকজন দুঃস্থ-দরিদ্র লোকজনদের তাড়িয়ে দেয়।
ওই দিন রাত ৮টায় চেয়ারম্যান মিজানুর নিজে এবং পরিষদের একজন দাফাদার ও তার ৬/৭ জন লোককে ইউনিয়ন পরিষদে দু’টি নসিমনসহ চালের বস্তা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য আসে। কিন্তু স্থানীয় জনতা তা আটক করে ফেলে।
এ সংবাদ পেয়ে আমরা পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবুল হোসেন.ইউপি সদস্য আজাহার আলী,আবুল হোনেস,মহিলা সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আঞ্জুয়ারা বেগমসহ এলাকার অনেকেই উপস্থিত হই। এবং  ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের রক্ষিত ১৯ বস্তা চাউল অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধা দেই। বিষয়টি আমারা তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, দূর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে মোবাইল ফোনে জানাই। ইউএনও সকালে বিষয়টি নিজেই হস্তক্ষেপ করবেন এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাউল বিতরণে দূর্নীতির অভিযোগের প্রমান পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের মোবাইল ফোনে আশ্বাস দেন।
ধূরন্ধর চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান নিজের বিপদ জানতে পেরে বুধবার গভীর রাত থেকে ভোর ও ঈদের আগের দিন বৃহস্পতিবার সকালে নিজের লোকজনদের বাড়ি বাড়ি দিয়ে ভিজিএফ’র কার্ড পৌঁছে দেয় সকালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাউল উত্তোলন করার জন্য। সকালে চেয়ারম্যান মিজানুর তার লোকজন নিয়ে চাউল উত্তোলনের নাটক করতে আসলে আমরা পরিষদের সদস্য বাবুল হোসেন, ইউপি সদস্য আজাহার আলী, আবুল হোনেস, মহিলা সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আঞ্জুয়ারা বেগমসহ এলাকার লোকজন তাদের বাধা দেই এবং জানাই, ইউএনও সাহেব লোক পাঠানোর পর সুষ্ঠুভাবে প্রকৃত লোকজন চাউল নিবে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এবং তার ভাই, ভাগিনা এবং সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের এলোপাথারীভাবে লাঠি পেটা করে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে। এতে ইউপি সদস্য আজাহার আলী, ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন, মহিলা সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আঞ্জুয়ারা বেগমসহ ৫ মারাত্মকভাবে আহত হই।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করি আমরা। আমরা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবার ফঁকে দূর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান আত্মসাৎ করতে চাওয়া ১৯ বস্তা ভিজিএফ’র চাউল তার নিজের লোকজনের মধ্যে বিতরণ করে দেয়। কিন্তু এলাকার প্রকৃত দুঃস্থ ও গরীব মানুষরা বঞ্চিত হয় সরকারী সাহায্য থেকে। অনেকে স্লিপ বা কার্ড পেয়েও পায়নি ভিজিএফ’র চাউল।
২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর যারা চাউল আনতে গিয়েছিলো,তাদের  চাউল নেই বলে তাড়িয়ে দিয়েছে চেয়ারম্যান মিজানুর। তার প্রমাণ এখনও চাউল পায়নি অনেক স্লপ বা কার্ডধারী দুঃস্থ মানুষ। অথচ ১৯ বস্তা চাউল সংরক্ষিত রেখে তা আত্মসাৎ করার চেষ্টা চালায় চেয়ারম্যান মিজানুর। আমরা তার প্রতিবাদ করে ১৯ বস্তা চাউল আটকের পর ইউএনও’র প্রতিনিধি’র উপস্থিতিতে আইনগত ও সুষ্ঠুভাবে প্রকৃত দুঃস্থ এবং গরীব মানুষের মাঝে বিতরণের দাবী জানালে উল্টো আমাদের লাঠিপেটা ও রক্তাক্ত করেছে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এবং তার ভাই, ভাগিনা এবং সন্ত্রাসী বাহিনী।
শুধু অনিয়ন ও দুর্নীতি করেই ক্ষান্ত নয় চেয়ারম্যান মিজানুর। পলাশবাড়ী ইউনিয়ন সীমান্ত বেষ্টিত হওয়ায় অত্র ইউনিয়নের সাধারণ জনগণকে তিনি বিভিন্ন সময় চোরাচালান ও মাদক পাচার মামলায় জড়িত থাকার হুমকি প্রদর্শন করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। কেউ তার কথায় সারা না দিলে চেয়ারম্যান মিজানুর থানা পুলিশকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ওই সব ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিয়ে জেল খাটান। এমন অসংখ্য প্রমান রয়েছে এলাকায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ