।। তুষার আব্দুল্লাহ ।। অপ্রতিরোধ্য গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। এটা সুষম সরকারের ভেতরে ব্যাধি ছড়ায়। ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে না সরকারের কোনও কোনও অংশ। ক্ষমতার তাপ সইতে না পেরে হয়ে পড়ে বেসামাল। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সেই ব্যাধিতে আক্রান্ত। ১১ বছরের শিশু সৌরভ শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের মতোই প্রাতঃ ভ্রমণে বেরিয়েছিল। গাইবান্ধার স্নিগ্ধ সকাল ওকে স্বাগত জানিয়েছিল পরিচিত অভ্যাসে। হয়তো নিকট দূরের ব্রহ্মপুত্র থেকে শীতল বাতাস এসে শিশু সৌরভকে ছুঁয়ে দিয়ে গেছে। ওর জানা ছিল না এক অসুন্দর ওর দিকে ধেয়ে আসছে। সংসদ সদস্য লিটনও একই সকালে বেরিয়েছিলেন প্রাতঃভ্রমণে।
তবে তিনি সকালকে অসুন্দর করতে বেরিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন অপ্রকৃতিস্থ। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য লিটন মদ্যপান করে পথে নেমেছিলেন। সৌরভের সঙ্গে দেখা হবার আগে পথে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তার দেখা হয়। তাদেরকে বলেছিলেন সঙ্গে থাকা পিস্তলটি তিনি ব্যবহার করতে চান। অর্থাৎ তিনি শিকার খুঁজতে নেমেছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর সংসদ সদস্য লিটন সৌরভের দেখা পান। গাড়িতে বসে ওকে কাছে ডাকেন। কিন্তু ভয়ে সৌরভ তার কাছে যেতে রাজি হয়নি।
ব্যাস! এমপি লিটনের অস্ত্র্রের শিকার হলো সৌরভ। ওর পায়ে গুলি করে মনের খায়েশ মিটিয়ে নিলেন মান্যবর সংসদ সদস্য। সুন্দরগঞ্জ থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তাই হয়তো ভোটারদের তোয়াক্কা করার দায় নেই তার। এর আগেও সরকারি হাসপাতালে গিয়ে গুলি করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী জামায়াত-বিএনপি’র নাশকতায় অভিযুক্তদের অনেককে তিনি তার সংসদ সদস্যের প্যাডে আওয়ামী লীগ কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে তাদের ছাড়ানোর জন্য স্থানীয় থানায় তালিকা পাঠিয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ বরাবরই বিএনপি জামায়াতের কাছে কোনঠাঁসা। তাই গত এক দশক কাউন্সিল হয় না। যে কারণে নতুন নেতৃত্বও তৈরি হয়নি। লিটন আছেন সাধারণ সম্পাদক হয়ে। লোকাল ট্রেনের ইজারাদার থেকে তিনি টিকেট পেয়ে যান সংসদ সদস্য হবার। স্থানীয় সূত্রেই খবর পাওয়া গেছে আগে থেকেই তিনি নেশায় আসক্ত। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়ে আসার পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে পড়েন। এমন অপ্রতিরোধ্য আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য হয়েছেন সেই খবর আমরা গণমাধ্যম সূত্রে জানি। এর মধ্যে টেকনাফের বদিকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান। সেই থেকেই ভরসা রাখতে চাই সংসদ সদস্য লিটনকেও আইনের আওতায় আনা হবে। শিশু সংবেদনশীল প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই সৌরভকে শিকারে পরিণত করার এই নৃশংসতাকে প্রশ্রয় দেবেন না। দুই দিন বাদেই শিশু দিবস। তার আগেই সংসদ নেত্রীতো বটেই, মাননীয় স্পীকারও এই অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, এতোটুকু বিশ্বাস, এখনও সঞ্চয়ে আছে। তাছাড়া জাতীয় সংসদের অন্য সদস্যরাও নিশ্চয়ই এমপি লিটনের এই অপ্রকৃতিস্থতায় অস্বস্তিতে আছেন। সংসদ সদস্যরা তাদের অবস্থান থেকে সৌরভসহ সকল শিশুর কাছে দুঃখ প্রকাশ করবেন, এই প্রত্যাশা কবে পূরণ হবে জানি না।
তাই সৌরভসহ সকল শিশুর কাছে করজোড়ে দেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি এমন সংসদ সদস্যকে মহান সংসদে প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য।
লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি