সিসি নিউজ: সীমাহীন দূর্নীতি আর অনিয়মের দায়ে অবশেষে চাকুরিচ্যুত হলো সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের লাইনম্যান হারুন-অর-রশিদ। গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-২ খন্দকার আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত পত্রে ওই তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, লাইনম্যান হারুন-অর-রশিদ সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগে কর্মরত অবস্থায় তথ্য গোপন করে সোনাপুকুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ৫জন গ্রাহকের জামানত ও প্রাক্কালন বিল জালিয়াতি, উত্তরা ইপিজেড, কামারপুকুর কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্থের বিনিময়ে অধিক দূরত্বের অবৈধ সংযোগ প্রদান করেন। এতে বিদ্যুৎ বিভাগ ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়। এছাড়াও উক্ত লাইনম্যান নিজেকে সরকার দলীয় শ্রমিক নেতা দাবি করে দাপ্তরিক সুবিধা ও অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করে। সর্বশেষ সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সৈয়দপুর থেকে সরানোর জন্য ওই দপ্তরে কর্মরত মহিলা কর্মচারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্বলিত চিঠি বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ, অফিস সময়ে মদ পান করে অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করা, তার এহেন কার্যকলাপ ঢাকার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ভুল বুঝিয়ে ডেকে এনে সরকারী কাজে বাঁধার চেষ্টা, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হত্যার হুমকিসহ একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয় লাইনম্যান হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তর হতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি তদন্তকালে লাইনম্যান হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পায়। তাছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের ওই পরিদপ্তর থেকে তার নামে একাধিকবার কারণ দর্শানো নোটিশসহ চিঠি ইস্যু করে। কিন্তু হারুন-অর-রশিদ বিষয়টিকে তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে ওঠেন। তার বেপরোয়া কর্মকান্ডে অফিসের সাধারণ কর্মকান্ডে ব্যাঘাত ঘটে এবং সরকারী রাজস্ব বৃদ্ধির উপর প্রভাব পড়ে। এদিকে, হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-২ খন্দকার আশরাফুল আলম লাইনম্যান হারুন-অর-রশিদকে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ২৩ (২) (ক) নং ধারা মোতাবেক চাকুরি থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণের আদেশ জারি করেন।
চাকুরীচ্যুত লাইনম্যান হারুন-অর-রশিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, লাইনম্যান হারুন-অর-রশিদের চূড়ান্তভাবে চাকুরিচ্যুত হওয়ার চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি যদিও দুঃখের কিন্তু বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে হওয়ায় সেখানে আমার করার কিছুই নেই। তবে হারুন-অর-রশিদ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মত অফিসে নিয়ম-কানুন মেনে চললে তাকে হয়তো এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হতো না।