সিসি ডেস্ক: বেতন কাঠামো পুনর্গঠন ও পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত এক মাস ধরে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সব জেলা, উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জাজরীন নাহার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি রবিবার মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর কথা রয়েছে।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার কদিন আগে পে স্কেল ঘোষণা করেছে। এখনও গেজেট জারি হয়নি। তার আগেই প্রাথমিকের শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমেছে। সরকারি চাকরিজীবীরা বিধি লঙ্ঘন করে এভাবে আন্দোলন করতে পারেন না। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষকদের তালিকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা তৈরি করেছে। সে তালিকা ইতোমধ্যে আমাদের কাছে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময়ই পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে সচেতন। পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বলতে চাই, আপনার বিন্দুমাত্র চিন্তা করবেন না। ঠিকমতো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। যথসময়ে নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানান, এই আন্দোলনে পেছন থেকে কেউ কেউ ইন্ধন দিচ্ছে। না বুঝে অনেকেই আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি প্রস্তুত করেছি। খুব শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ‘গেজেটেড পদমর্যাদা’ বাস্তবায়নের দাবিতে ১ অক্টোবর সারাদেশে চেয়ার বর্জন কর্মসূচি পালন করেন। এ বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক রিয়াজ পারভেজ বলেন, আমরা আমাদের দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছি।
তিনি বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বরের দাবি পূরণ করতে সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়ায় আমরা শনিবার থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করছি। যা চলবে সোমবার পর্যন্ত।
এরপরও সরকার দাবি না মানলে আগামী ৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবো আমরা। তিনি নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বর্জনেরও কর্মসূচি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অষ্টম বেতন স্কেলে পদমর্যাদা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনসহ কয়েক দফা দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঁচটি সংগঠনের মোর্চা বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ঐক্যজোট।
আন্দোলনরত শিক্ষকেরা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬৩ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌনে চার লাখ শিক্ষক রয়েছেন।