সিসি ডেস্ক: সিলেটে পৈশাচিক নির্যাতনে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুলকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা সৌদি আরব যাচ্ছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তারা সৌদি আরব গিয়ে কামরুলকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র তারা হাতে পেয়েছেন। আজ বুধবার সৌদি যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ হতে পারে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সদর দপ্তর) মাহবুবুল করিমের নেতৃত্বে তিনি এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সৌদি আরব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর সৌদি আরব পালিয়ে গিয়ে গত ১৩ জুলাই আটক হন কামরুল। এরপর থেকে তিনি সৌদি পুলিশের জিম্মায় রয়েছেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কামরুলকে দেশে আনার অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
এরপর তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, কামরুলকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সৌদি সরকার এ বিষয়ে ইন্টারপোলকে একটি চিঠিও দিয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ফেসবুক স্ট্যাটাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম জানিয়েছিলেন, সৌদি আররে আটক শিশু রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে সৌদি রয়েল কোর্ট। ইন্টারপোল কাগজ হাতে পেয়েছে। খুব বেশি দুই সপ্তাহ লাগবে। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার এক মাসেরও বেশি সময় পর কামরুলকে ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
এদিকে, প্রধান আসামি কামরুলের অনুপস্থিতেই গত বৃহস্পতিবার এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে রাজনকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার পর বিদেশে চলে যান সৌদি আরব প্রবাসী কামরুল৷ পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় জেদ্দায় তাকে আটক করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা৷