দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০১৩টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের সংখ্যা ৩৯৯টি ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ ৬১৪টি। এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩ উপজেলায় পুরনো ও নতুনভাবে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৮৪৫টি। এসব বিদ্যালয়ে নতুনভাবে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্ত হওয়া ১৭১ জন শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছে ৯ হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে ৩৯৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে এবং সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে ৬১৪টি। আর এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় একদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, পূর্বে নিয়ম ছিল জরুরী প্রয়োজনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমতিক্রমে উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাৎক্ষনিকভাবে শূন্য পদে শিক্ষকদের সংযুক্তি দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান সচল রাখতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষককে কেবল মন্ত্রনালয় নিয়োগ বা সংযুক্তি দিতে পারবেন। এতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হয়। ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাকার্যক্রম।
দিনাজপুর জেলা প্রাতমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সমেশ চন্দ্র মজুমদার জানান, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পরণের জন্য ৬৫ ভাগ পদোন্নতি ও ৩৫ ভাগ নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর একটি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি অচিরেই এই সমস্যা কেটে যাবে।
এসব বিদ্যালয়ে অতিদ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক সংকট নিরসন ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এমনটিই আশা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের।