গাইবান্ধা: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের গোপালপুর মৃধাপাড়া গ্রামের তরুণী গৃহবধু জাহিদা আকতার আয়শা (২২) যৌতুকের কারণে স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন।
গত সোমবার দিবাগত গভীর রাতে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে পুলিশের ধারণা। ঘাতক স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
প্রতিবেশী এবং পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ বছর আগে ওই গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে পার্শ্ববর্তী কোচাশহর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মেয়ে জাহিদা আকতারের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই জাহাঙ্গীর হোসেন নানা অজুহাতে স্ত্রী জাহিদা আকতারকে যৌতুক বাবদ বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য নানাভাবে চাপ দিতে থাকে। শ্বশুর জাহিদুল ইসলাম মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাঝেমধ্যে দাবিকৃত টাকা তার হাতে তুলে দিতেন। কিন্তু এ চাহিদা ক্রমেই বাড়তে থাকায় জাহিদা আকতার স্বামীর চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে বাবার কাছ থেকে টাকা আনতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হতো। গত সোমবার রাতেও একই কারণে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। এসময় জাহাঙ্গীর হোসেন স্ত্রী জাহিদা আকতারকে মারপিট করে। একপর্যায়ে সে জাহিদার গলা চেপে ধরলে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে জাহাঙ্গীর হোসেন ওই রাতেই শ্বশুর জাহিদুল ইসলামকে তার মেয়ের অসুস্থতার কথা বলে ফোন করে। সকালে জাহিদুল ইসলাম অসুস্থ মেয়েকে দেখতে এসে তার মৃতদেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানান, তার গলায় কালসিটে দাগ রয়েছে। এব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।