সিসি ডেস্ক: আনসার আল ইসলাম ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের টার্গেটে রয়েছেন আরো অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি। এরমধ্যে নারী পুরুষ দুই রকমই রয়েছে। মোট আটটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তারা তাদের টার্গেট করা ব্যক্তিদের তালিকা করেছে। এটা তাদের হিট লিস্ট। আট ক্যাটাগরির তালিকায় রয়েছে নানা পেশাজীবীদের নাম। আট ক্যাটাগরি কি কি সেটাও তারা একটি ওয়েব পেইজ সাইটে বলেছে। একটি ফেস বুক পেজেও বলেছে। ওই সব সাইট ও পেইজ পর্যালোচনা করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা।
আনসার আল ইসলাম উল্লেখ করেছে, কি কি কারণে তারা একজনকে টার্গেট করে। বর্তমানে প্রধান টার্গেট রয়েছেন উত্তরার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ে পোশাক পড়া নিয়ে কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করেছে। যেসব ব্যক্তিরা টার্গেট হয় তাদেরও এই ব্যাপারে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও তথ্য দিয়ে সহায়তা করা উচিত বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। থানায় জিডি করার পর এই ব্যাপারে আরো সতর্কতা প্রয়োজন।
সূত্র জানায়, আনসার আল ইসলামের টার্গেটে এক নম্বরে রয়েছেন ওই সব ব্যক্তি যারা আল্লাহতালাকে হেয় প্রতিপন্ন করেন। আরো টার্গেট রয়েছেন যারা নিজ নিজ পরিমন্ডলে থেকে ইসলাম ও আল্লাহর বিরুদ্ধে কাজ করছেন তারা। এর মধ্যে শিক্ষক, মেয়র ও যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার পরও এই ধরনের কাজ করছেন, তাদের তালিকায় আরো কোন কোন ক্যাটাগরির লোক রয়েছে সেটাও তারা বলেছে। সেখানে এটাও বলা হয়েছে যেসব লেখক, সাংবাদিক, সম্পাদক তাদের লেখনির মাধ্যমে ইসলাম ও আল্লাহকে হেয় করছেন ও আগামী দিনে করবেন ও ইসলামের তথ্য বিকৃত করছেন তারাও রয়েছেন। আরো কোন কোন শ্রেণীর ব্যক্তি কি কাজ করলে টার্গেটে পরিণত হবেন সেটাও বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এই পর্যন্ত আনসার আল ইসলাম টার্গেটে কারা কারা রয়েছেন এই সংক্রান্ত নামের তালিকা বের করতে গিয়ে এই সব ক্যাটাগরি ছাড়াও কারা কারা রয়েছেন তাদের নামও বের করেছেন। হিটলিস্ট সময় সময় আপডেট হয় বলেই এটা সময়ে সময়ে আপডেট করা হয়। এরপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই সব তালিকা ধরে চেষ্টা করছেন ঘটনা প্রতিহত করতে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু এরপরও হত্যার ও হামলার ঘটনা ঠেকাতে পারছেন না।
সূত্র আরো জানায়, দিন যত যাচ্ছে আনসার আল ইসলামের টার্গেট এর তালিকা আরো বড় হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৭/৮ মাস আগে যে হিট লিস্টের তালিকা করে সেটা আরো বেড়েছে। সেখানে নতুন নতুন নাম যোগ হয়েছে। এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে একটি সূত্র জানায়, আনসার আল ইসলাম সময় সময় তাদের হিট লিস্ট আপডেট করে। যাকে টার্গেট করে তার সম্পর্কে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। কিভাবে তারা একজন লেখকের নাম পরিচয় ও তাদের কাছের মানুষকে বের করে এরপর লেখকের ব্যাপারে সকল তথ্য সংগ্রহ করে সেটা করেই তারা ওই সব ব্যক্তিকে নজরদারীতে রাখে। কোথায় যায়, কি করে, কাদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, টার্গেটকৃত ব্যক্তির সম্পর্কে সব তথ্য সংগ্রহ করে এরপরই তারা সব পরিকল্পনা করে।
এই টিমের যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেই সব সূত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পেরেছে যে, তারা অনেক সুনির্দিষ্টভাবেই টার্গেট করে। যাদের দিয়ে ঘটনা ঘটায় তারা যে এলাকায় ঘটনা ঘটে সেই এলাকার থাকে না। বাইরে থেকেই আনা হয়। সেটা বাংলাদেশের বাইরে নয় দেশের ভেতরে। তবে এই টার্গেট করার ধারণা ও চিন্তা চেতনা ও আদর্শ বাংলাদেশের বাইরে থেকেই আসে বলে তারা জানতে পেরেছে। বিদেশ থেকে আসা আদর্শ বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করে।
সূত্র জানায়, এই কাজটি অনেক পরিকল্পিতভাবেই করা হয় বলে মনে করছেন এই টিম নিধনে যারা কাজ করছেন তারা। মনে করেন, ওই টিম চাইলো আর ঘটনাটি ঘটালো এমন নয়। অনেক পরিকল্পনা করেই কাজ করায়। যারা কাজটি করে তাদেরকে এটাই বোঝানো হয় যে, টার্গেটকৃত ব্যক্তি ইসলাম ও আল্লাহর বিরুদ্ধে, তাকে হত্যা করা হলে বেহেশতে যাওয়া যাবে। ওই বেহেস্তে যাওয়ার আশায় কাজটি করে।
এই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কি ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাইলে সূত্র জানায়, সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। তবে সব সময় ঘটনার পেছনের মূল ব্যক্তিকে ধরা সম্ভব হয় না। আবার যারা ঘটনা ঘটায় তাদেরকেও ধরা সম্ভব হয় না। কারণ ওই সব ব্যক্তি মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ইন্টারনেটের কোন মাধ্যমে তারা এসএমএস ছাড়া অন্য কোন ধরনের যোগাযোগ করছে না। সরাসরি বৈঠক করে। সেটা ভোরে ও আসরের নামাজের পরে দাওয়াতের নামে করছে। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষী না পাওয়াতেও এই ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য জানলেও তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না। পালিয়ে যায়।
এদিকে আটজন ব্লগার হত্যার ঘটনায় সরকার এখনও কাউকে বিচারের মুখোমুখি করতে পারেনি। এটা করতে না পারার কারণে নানা মহলে প্রশ্ন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে কাজ করছে না এবং তাদের সেই সক্ষমতা নেই বলেও কথা উঠেছে। তবে একটি সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ করছে ঠিকই। কিন্তু ঘটনার পেছনের সকলকে ধরা সম্ভব হয়নি। এই ব্যাপারে আরো প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে। কিছু ঘটনার বিচার তরান্বিত করা গেলে অপরাধীরা ভয় পাবে। সেই জন্য সরকারকে বিচারের ব্যাপারে আরো তরিৎ ব্যবস্থা নিতে হবে।
সূত্র জানায়, আগামী দিনে যেসব ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়েছে এরমধ্যে নারীরা রয়েছেন। তারাও লেখকই বেশি। তবে একজন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার বোনের নামও রয়েছে ওই হিট লিস্টে। হিট লিস্টে এখন ঠিক কত নাম আছে জানতে চাইলে সুত্র জানায়, এটা ৫০ এর বেশি। এর বেশি সুনির্দিষ্ট করে সংখ্যা বলা ঠিক হবে না। ওই সব হিট লিস্টের অনেকেই নাকি জানেন তাদের নাম হিট লিস্টে রয়েছে। এই জন্য তাদেরকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোন আপডেট তথ্য থাকলে সেটাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়ার অনুরোধ জানান। পুলিশকেও তথ্য দিলে সুফল আসতে পারে বলেও মনে করছেন। আস