• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

শিবির করলে পনের’শ আর না করলে ৩ হাজার

কুড়িগ্রামকুড়িগ্রাম: শিবির করলে পনের’শ আর না করলে ৩ হাজার টাকা। এ ঘোষণা দিয়ে দাখিল পরিক্ষার ফরম পূরণ করাচ্ছেন এক মাদ্রসা সুপার। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের এ ঘটনাটি ঘটছে, কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদবিচ্ছিন্ন রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা বছিরিয়া দাখিল মাদ্রাসায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার অভিভাবক মহলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ উঠেছে, ওই মাদ্রাসাটির সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হওয়ায় ছাত্রদের শিবির বানানোর কারখানা তৈরি করতে এ অভিনব কৌশল অবলম্বন করছেন। এ ব্যাপারে গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জসিম উদ্দিন নামের এক ছাত্র লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।

অভিযোগকারি ছাত্র জানায়, “আমি শিবির সমর্থন করিনা জন্য আমার দাখিল পরিক্ষার ফরম পূরণের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। আমি হত-দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়ে ফরম পূরণে টাকা কম নেয়ার জন্য অনেক কান্নাকাটি করেছি কিন্তু সুপারের মন গলাতে পারিনি। শিবির সমর্থন করেনা এমন ছাত্রদের ফরম পূরণে ৩ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ প্রকাশ্যেই মাত্র পনের শত টাকায় ছাত্র শিবির সমর্থনকারীদের ফরম পূরণ করাচ্ছেন ঐ সুপার।

ছাত্র জসিম সাংবাদিকদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমাকে সুপার রুমে ডেকে নিয়ে বলেন, তোমার বাড়ি কাউনিয়ারচর গ্রাামে। ঐ গ্রামের সবাই জামায়াত শিবির করে তুমি একা ছাত্রলীগ কর কেন ?”

মাদ্রাসায় কর্মরত এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান, সুপার নিজেই জামায়াতের একজন বাঘা নেতা। মাদ্রাসায় যারা শিবির করবে তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেন তিনি। যারা ছাত্রলীগ সমর্থন করে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এমনকি আর্থিকভাবেও নাজেহাল করা হয়। অভিযোগকারি জসিম উদ্দিন কাউনিয়ার চর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলীর পুত্র।

ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করতে গেলে, সামনে পরীক্ষা এ ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মূখ খুলতে রাজি হয়নি। তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই মাদ্রাসার ছাত্রী আরজিনা খাতুন বলেন, ‘আমার বাবা আ’লীগ করে জন্য আমারও ৩ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করেছিল, কিন্তু আমি অনেক অনুরোধের মাধ্যমে ২৭০০ টাকায় ফরম পূরণ করেছি।’

এভাবেই এরশাদুল হক ৩২০০, জসিম ২৭০০ ও তৌহিদুল হককে ২৬০০ টাকায় ফরম পূরণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ টাকার সাথে বোর্ড ফি’র পার্থক্য আকাশ পাতাল।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা।

উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে প্রকাশ্যে জামায়াত শিবিরকে লালন করার ঘটনা আমাদেরকে বিশ্মিত করেছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, একজন শিক্ষক এমন কাজ করতে পারেনা, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ