• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

হাবিপ্রবিতে অজানা আতঙ্কে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ॥ নিরাপত্তা জোরদার

HSTU Bedeshi Student Picমাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: প্রশাসনের সহায়তা ও নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি না থাকলেও আতঙ্ক আর ভয়-ভীতির কমতি নেই। অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বিদেশি শিক্ষার্থীরা।
তারা বলছেন, ভয় নেই। আমরা ভালোই আছি। তবে আমাদের পরিবারের সদস্যরা সদা আশঙ্কা আর নানা ধরনের দুঃশ্চিন্তায় আছেন। তাদেরকে বার বার নিরাপত্তার কথা জানালেও তারা ফোন ও ই-মেইল করে চলেছেন। বলছেন, ‘বি ওয়্যার’ সাবধানে থেকো বাবা। সতর্কতার কমতি যেন স্পর্শ না করে। এভাবেই বিদেশি শিক্ষার্থীরা খোলা-মেলা কথা বলেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি। তবুও যেন অজানা আতঙ্কে বার বার নানা শঙ্কায় ভুগছি। বিগত ক’মাসে দু’জন বিদেশি হত্যা, গলাকেটে প্রাণ নাশের চেষ্টা ও গুলির ঘটনায় হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা নানান উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। তারা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। জরুরি প্রয়োজন হলে প্রশাসনের পরামর্শ নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন।
এই পরিস্থিতে হাবিপ্রবিতে অধ্যয়নরত বিদেশি কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অনুভূতি তুলে ধরা হল ঃ
সোমালিয়া থেকে আগত এগ্রোনমি বিভাগে মাস্টার্স এ অধ্যয়নরত ছাত্র মো. ইউনুস আহমেদ নুর বলেন, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে খারাপ হচ্ছে। এখন বিদেশিদের উপর হামলা হচ্ছে। তাই ভয় তো একটু আছেই। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা সব জায়গায়ই থাকতে পারে। তারা চাইলে আক্রমণ করতে পারে, এটাই ভয়। এ ব্যাপারে আমি আমাদের ভিসি স্যার ও বাংলাদেশ সরকরের কাছে যথাযত ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
সোমালিয়া থেকে আগত ভেটেরিনারি অনুষদের প্রথম বর্ষের ছাত্র  নুর আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা ক্যাম্পাসের বাহিরে থাকি। এদেশের ভাষা জানি না। আমরা যেই অঞ্চলে থাকি তারাও আমাদের ভাষা বোঝে না। তাই এমনিতেও সমস্যায় থাকি। তার মাঝে এমন ঘটনা সত্যি ভয়ের কারণ। তিনি বলেন, আমরা ভিসি স্যারকে অনুরোধ করব, যাতে করে আমাদের ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকার বেবস্থা করা হয়।
অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিসটিকস এ অধ্যয়নরত সোমালিয়ার অপর ছাত্র মো. মুস্তাফা উসমান বাবা বলেন, সত্যি আজকে দিনাজপুরে যা ঘটেছে তা হৃদয় বিদারক। তবে আমি  এই দেশে কখনও আন সিকিউর অনুভব করি না। কারণ প্রায় সব দেশেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দেশকে নিয়ে অন্য কিছু ভাবার কারণ নেই। তিনি হাজী দানেশ তথা সারা বাংলাদেশে অবস্থানরত সকল বিদেশিদের এই ধরনের ঘটনা থেকে রক্ষা  করার জন্য প্রার্থনা করেন।
নেপাল থেকে পড়তে আসা  দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিতি লেমিক বলেন,  এ ধরনের ঘটনা সত্যি ভয়ের কারণ। তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় থাকি। আমরা অনেক ভালো আছি। কিন্তু আমাদের সাথে যারা নেপাল, ভুটান, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া থেকে পড়তে এসেছে, তারা কাম্পাসের বাহিরে আন্তর্জাতিক  হোস্টেলে অবস্থান করছে। তারা একটু ভয়ের মধ্যে রয়েছে।
ভুটান থেকে পড়তে আসা বিবিএ প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ছাত্রী ইউগেন বলেন, বিগত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া বিদেশি নাগরিক হত্যা ও তাদের উপর আক্রমণ সত্যি ভয়ের। তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকি। তাই আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমরা যথেষ্ট নিরাপত্তার মধ্যেই আছি।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বুধবার দুপুরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য শুনে তাদেরকে সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছি।
তিনি বলেন, সকল হল সুপারকে তার হলে অবস্থানরত সকল বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা চাই বিদেশি শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ও শঙ্কামুক্তভাবে পড়াশুনা করুক। যারা ক্যাম্পাসের বাহিরে আন্তর্জাতিক হলে অবস্থান করছে তাদের ক্যাম্পাসে হলে আনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ