সিসি নিউজ : সৈয়দপুরের তুলসীরাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছে। আর সেই টাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি লোকজন বাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফরম পূরণ বাবদ ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, এসব পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা নেয়া হয়। অতিরিক্ত টাকা নেয়া প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের ফরম পূরণে দায়িত্বরত শিক্ষকবৃন্দ জানায়, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি ১৩৭৫ টাকা ছাড়াও কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকা, তিন মাসের বেতন ৭৫০ টাকা এবং বাকী টাকা অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য নেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্লাস ফি কেউ করতে না চাইলে তারা ওই টাকা প্রদান করবে না। তবে বোর্ড নির্ধারিত ফি ছাড়া বাকী টাকার কোর রশিদ প্রদান করা হচ্ছেনা স্বীকার করে ওই শিক্ষকবৃন্দ জানান, স্কুল ফান্ডে টাকা জমা হলে কমিটির কাছ থেকে তা উত্তোলন করা সম্ভব হবে না। ফলে শিক্ষকরা প্রাপ্ত অর্থ থেকে বঞ্চিত হবে নিশ্চিত।
প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্য আলতাফ হোসেন সিসি নিউজকে জানান, অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ব্যাপারে কমিটির কোন নির্দেশ নেই বা শিক্ষকরা এ ধরণের কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারবে না। প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ টাকা নেয়া হচ্ছে।
ফরম পূরণে আসা শিক্ষার্থী জয়নবের বাবা জোবেদ আলী জানান, তিনি সাড়ে ৬ হাজার টাকা দিয়ে মেয়ের ফরম পূরণ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, দীর্ঘ দু’বছর ক্লাস করে শিক্ষকরা যেখানে উন্নয়ণ করতে পারেনি, সেখানে মাত্র দু’মাসে কি উন্নয়ণ করবেন? এটা অতিরিক্ত ক্লাসের নামে ব্যবসার ফাঁদ। এছাড়া যেখানে মেয়েদের বেতন অবৈতনিক- সেখানে তিন মাসের বেতন কেন?
কথা হয় ওই প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমানের সাথে। তিনি অতিরিক্ত ফি নেয়া প্রসঙ্গে সিসি নিউজকে বলেন, যারা অতিরিক্ত ক্লাস করবে, তারাই শুধু টাকা দেবে। ডে-নাইট ক্লাস করলে শিক্ষকদেরকে তো টাকা দিতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফেরাজ উদ্দিন বলেন, কমিটির মেয়াদ চলতি মাসের ১৪ তারিখ শেষ হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ঘটনা শুনেছেন। অতিরিক্ত ফি-এর কারনে অনেক অভিভাবক নিদিষ্ট সময়ে ফরম পূরণ করতে পারেনি বলে তিনি সিসি নিউজকে জানিয়েছেন।
সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাকেরিনা বেগম সিসি নিউজকে জানান, বোর্ড নির্ধারিত ফি-এর বেশি কোন প্রতিষ্ঠান আদায় করতে পারবে না। যত সামান্য আদায় করলে তা অবশ্যই রশিদমূলে পরিচালনা কমিটির জ্ঞাতার্থে আদায় করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য প্রতি বিষয় ১৫০ টাকা (সর্বোচ্চ ৫ বিষয়) হারে আদায় করতে পারবে।