সিসি নিউজ : আজ রবিবার বাংলাদেশ-ভারত জেলা প্রশাসক পর্যায়ের যৌথ সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সীমান্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নিরসনের লক্ষ্যে ২ দেশের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট পর্যায়ের এ সীমান্ত সম্মেলন আজ সকালে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কাঞ্চন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই ১১ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল দিনাজপুরে পৌঁছেছে।
দিনাজপুরের বিজিবি সেক্টর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিস্থলবন্দর দিয়ে প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ সময় স্থলবন্দর জিরো পয়েন্টে তাদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান দিনাজপুর জেলা ও হাকিমপুর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ। বিকেল সাড়ে ৩টায় ভারতীয় প্রতিনিধিদল দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তজিউ মন্দির এবং বিকেল ৫টায় রামসাগর পরিদর্শন করে।
সম্মেলনে দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিজিবি কমান্ডারদের সাথে ভারতের ৬টি জেলার ডিএম, পুলিশ সুপার ও বিএসএফ কমান্ডারদের নিয়ে এ সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে হিলিস্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধিদল প্রবেশ করলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর ডিএম তাপস চৌধুরী জানান, ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শীস রাম জাজারিয়া, উত্তর দিনাজপুরের ডিএম রন্ধির কুমার, পুলিশ সুপার সৈয়দ ওয়াকার, মালদার ডিএম শারদ কে আর, পুলিশ সুপার প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ির ডিএম প্রিথা সরকার, পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়া, দার্জিলিংয়ের ডিএম অনুরাগ শ্রীভাস্তব ও পুলিশ সুপার অমিত পি জাভালগি প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।
তাপস চৌধুরী বলেন, সম্মেলনে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া বিষয়গুলির ওপর আলোচনা হবে। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- সীমান্তে নোম্যান্স ল্যান্ডের অবকাঠামো স্থাপনা, চোরাচালান, মাদক পাচার রোধ, সীমান্ত হত্যা, সীমান্তবাসীদের চলাচলের ব্যবস্থা ও মানব পাচার।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, উভয় দেশের সীমান্ত সমস্যা বিষয়ক সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ অংশের হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ত্বরান্বিত, অবৈধ অণুপ্রবেশ রোধ, মাদক ও চোরাচালান বন্ধ, অহেতুক গুলিবর্ষণ করে মানুষ হত্যা বন্ধ, বন্দী প্রত্যার্পণ, বর্ডার হাট স্থাপন, সিএস রেকর্ড হস্তান্তর, জমি সংক্রান্তসহ প্রায় ২০টি বিষয় নিয়ে উভয় দেশের সীমান্ত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়ন ও আলোচনা হবে।