বরিশাল: বিএনপির রাজনীতিকে ‘গুডবাই’ জানিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বরিশাল বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান রাজন। বিএনপির এই নেতা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে চাকুরি নিয়েছেন। রাজন স্বদলের অপর প্রভাবশালী নেতার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে রাজনীতিকে ‘গুডবাই’ জানিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপির রাজনীতিকে ‘বিদায়’ জানিয়ে ভাইয়ের সাথে তিনি আজ যুক্তরাষ্ট্রে।
সূত্র মতে, একসময়ের দাপুটে নেতা দলীয় কোন্দলে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এর বাইরেও রাজনৈতিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বে নাস্তানাবুদ হয়ে অবশেষে আমেরিকায় সন্তান ও ভাইয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন। বরিশাল বিএনপির রাজনীতি দ্বিধাবিভক্ত হওয়ায় সাবেক এমপি বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ারের বিরোধী গ্রুপে রাজনীতি করেন নজরুল ইসলাম খান রাজন। সরোয়ারবিরোধী বেশির ভাগ নেতাকর্মীই গ্রুপিং প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেননি। ফলে আস্তে আস্তে অধিকাংশ নেতাই নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এ কারণেই বরিশাল বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় অনপুস্থিত থাকেন তিনি। গত কয়েক বছরে রাজপথেও তেমন একটা দেখা যায়নি তাকে। এর আগে ২০১২ সালে রাজনকে কুপিয়ে জখম করলে তিনি বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ‘হত্যা চেষ্টা’ মামলা করেন। এরপর সুস্থ হয়েই নিষ্ক্রিয় হয়ে যান রাজন। এর মধ্যে আবার স্ত্রীর সাথে পারিবারিক ঝামেলাও পোহাতে হয় তাকে। দুই বছর আগে পারিবারিক ঝামেলা মিটিয়ে নিজেকে টেনশনমুক্ত করেন। ছেলে আমেরিকায় থেকে লেখাপড়া করে। মেঝ ভাইও আমেরিকায় রয়েছে। গত সাত মাস আগে নজরুল ইসলাম খান রাজন বাংলাদেশ ত্যাগ করে আমেরিকায় চলে যান। শুধু তাই নয়, আমেরিকার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরিও নিয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে প্রাথমিক পরিসমাপ্তি টেনে রাজন এখন কর্মস্থল নিয়ে ব্যস্ত। দলের এই ক্রান্তিলগ্নে বরিশাল বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে মাঠপর্যায়ে ঘর গুছিয়ে তৃণমূল বিএনপিকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে এখন আমেরিকায় অবস্থান করা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজন টেলিফোনে বলেন, একে তো দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ভালো না, অন্যদিকে দলের ভেতরকার প্রতিহিংসা আমাকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। যার দরুন একটু যাত্রাবিরতি নিচ্ছি। যদিও দেশ ও দলের জন্য মন কাঁদে। বরিশাল বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই রাজনের বর্তমান অবস্থাকে স্বাভাবিক বলে মনে করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির রাজনীতিতে রাজনের কদর ছিল। বিলকিস জাহান শিরিন ও আহসান হাবিব কামালের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার পর সরোয়ারের রোষানলের শিকার হন রাজন। রাজপথে নিজ দলের গুন্ডা বাহিনীর ধারালো অস্ত্র রাজনের শরীর রক্তাক্ত করেছিল। ফলে রাজনীতির সমীকরণে পরাজিত রাজন আজ আমেরিকায় একটি কোম্পানির কর্মচারী। রাজনীতিসচেতন স্থানীয় মহলের প্রশ্ন, রাজনের মতো যারা নিজ দলের নেতাদের প্রতিহিংসার শিকার তাদের ঠাঁই কোথায় হবে।