সিসি নিউজ: নীলফামারীতে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, স্ত্রী হত্যায় স্বামী বিপুল চন্দ্র রায় (৩০)। সে জেলার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান গ্রামের বাসিন্দা। কৃষক হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর গ্রামের মকিম উদ্দীনের ছেলে বাবুল (৩৮), তার বড় ভাই মোসলেম উদ্দীন (৪২), চাচাত ভাই দুলাল হোসেন (৩৭), আব্দুল মজিদ (৪০) ও রায়হানের ছেলে ভাতিজা সাইফুল ইসলাম (২৫)। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলায় ১৪ জন আসামীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদুল কবীর এ রায় দু’টি ঘোষণা করেন। মামলার বিবরনে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল যৌতুকের দাবীতে জেলার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান গ্রামের গৃহবধু এক সন্তানের জননী সন্ধ্যা রাণী রায়কে পিটিয়ে হত্যা করে তার স্বামী বিপুল চন্দ্র রায়। হত্যার পর নিহতের স্বামী নিহতের শরীরে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করে থানায় একটি অপমৃত্যু অভিযোগ দায়ের করেন। এ সময় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করায়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশ তদন্তে সন্ধ্যা রাণী রায়কে হত্যার বিষটি নিশ্চিত হলে ডিমলা থানার উপ-পরিদর্শক এসএম মহিউদ্দীন বাদি হয়ে ওই বছরের ৩ জুন সন্ধ্যা রাণী রায়ের স্বামী বিপুলকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ শুনানী এবং বিপুলের স্বীকারোক্তিতে হত্যার বিষয়টি প্রমানিত হলে আদালতের বিচারক ওই আদেশ প্রদান করেন। ২০০৭ সালের আগষ্ট মাসে ওই দম্পত্তির বিয়ে হয়। নিহত সন্ধ্যা রাণী জেলার জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের পশ্চিম গড় ধর্মপাল মাঝাপাড়া গ্রামের অমূল্য চন্দ্র রায়ের মেয়ে। অপরদিকে, ২০০৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক সফিয়ার রহমানকে পিটিয়ে আহত করেন তার প্রতিপক্ষরা। এ সময় জেলার সৈয়দপুর উপজেলার খাতা মধুপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০শয্যা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে পরদিন ২৪ জুন সৈয়দপুর থানায় ১৯ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানীতে পাঁচজনের জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমানিত হলে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, প্রত্যেকের ১০ হাজার করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬মাসের করাদন্ড প্রদান করে আদালতের বিচারক। মামলার অপর ১৪ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।