সিসি নিউজ: বন্দর নগরী চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঘাটিতে শুক্রবার মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য শনিবার জানা গেছে। পুলিশের একটি সূত্র থেকে শুক্রবার নৌবাহিনীর ওই ঘাটির ভেতর দুটি মসজিদে হামলা হয়েছে বলা হলেও সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আইএসপিআর এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেনি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদ বলেন, অবশ্য এটি একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই হামলায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে, আটককৃত ব্যক্তি সামরিক বাহিনীর সদস্য। যদিও তিনি এই বাহিনীতে তিন বছর ধরে কাজ করছেন। সামরিক বাহিনীতে এটি প্রথম ঘটনা নয়, তিন বছর আগেও হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড আমরা পেয়েছি সেটি হচ্ছে তিনি ভুয়া শিক্ষাসনদ দেখিয়ে চাকরি নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সামরিক বাহিনীতে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে যারা যাচাই-বাছাই করেছে তারা এ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি। যারা এ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে তারা এই তথ্যগুলো সাজাতে পারেনি। বর্তমানে সামরিক বাহিনীর চাকারির ক্ষেত্রে সে বিষয়গুলো হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। যারা বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরি করছেন তাদেরকে নতুন করে ছাকনি দেওয়ার সময় এসেছে এখন।
হামলায় সামরিক বাহিনীকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করি, যারা সামরিক বাহিনীতে এসব হামলা করে তারা মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত হয়ার জন্য এ কাজ করে। তাদের শক্তির বার্তা হামলার মাধ্যমে প্রকাশ করে। তাদের শক্তিকে আমরা যদি গণনা করি তাহলে তারা এখনও সেভাবে শক্তিশালি হতে পারেনি। যারা এটা করছে তাদের মৌলবাদের ক্ষেত্রে দেশের গোয়েন্দাবাহিনীর সম্পৃক্ততা এসে যায়।
চট্টগ্রামে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মসজিদে বোমাহামলা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। র্যাব বা পুলিশের কোনও পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিশেষ কিছু জানা যাচ্ছে না। ঘটনার ফলোআপ জানতে চট্টগ্রাম পুলিশের কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর বা আইএসপিআরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
তবে পুলিশের অন্য একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার মূলত দুটি মসজিদে বোমাহামলার ঘটনা ঘটে, মসজিদ দুটির নামÑ নৌবাহিনী হাসপাতাল মসজিদ ও ঈসাখাঁ ঘাটি মসজিদ। যদিও আইএসপিআর এ খবর এখনও নিশ্চিত করেনি।
গেল শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছিল এই হামলার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু বার্তা সংস্থা এএফপি একজন পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে যারা এ মসজিদ দুটির অবস্থান সম্পর্কে জানেন তারা বলছেন, মসজিদ দুটি খুব কাছাকাছি ব্যবধানে অবস্থিত। দুটোর মধ্যে দূরত্ব কয়েকশ’ ফুটের বেশি নয়।
গেল শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছিল এ হামলার সময় স্থানীয় মুসল্লিরা মিজান নামে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিল।
সে ভুয়া শিক্ষাসনদ দেখিয়ে চাকরি নিয়েছিল বলেও জানিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু ওই ব্যক্তির খোঁজখবর নিতে শনিবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর পুলিশের একটি সূত্র বলছে, থানায় তার নামে মামলা করা হলেও শুক্রবারই তাকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং র্যাবই এখন এই ঘটনার তদন্ত করছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রামে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও আইএসপিআরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
আর আইএসপিআর জানাচ্ছে, দেওয়ার মতো নতুন কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। সবশেষ তথ্য সম্বলিত বিজ্ঞপ্তি শুক্রবারই দেওয়া হয়েছে।
আইএসপিআর যে বিজ্ঞপ্তিটি দিয়েছিল সেখানে বলা হয়, ‘চট্টগ্রামস্থ নৌবাহিনী ঘাটি ঈসাখাঁন মসজিদে শুক্রবার (১৮-১২-২০১৫) দুপুরে জুমার নামাজের পর দুইটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। উক্ত বিস্ফোরণে ৫/৬ জন সামান্য আহত হয়েছে।’
এরআগে শুক্রবার পুলিশ জানায়, মসজিদটিতে গ্রেনেড হামলা হয়েছে, এতে ৬ জন আহত হয়েছে। যারমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সূত্র : বিবিসি বাংলা