পিরোজপুর: জেলার মঠবাড়িয়ার ৯ বছর বয়সের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা আক্তার ইতিকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মামাতো ভাইসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জজ আদালত।
রোববার পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. গোলাম কিবরিয়া এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হল জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মেহেদি হাসান স্বপন (২২) ও সুমন জোমাদ্দার (২০)।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর উপজেলার পূর্ব সাপলেজা গ্রামের ফুল মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় বুখইতলা বান্ধবপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইতিকে তার মামাতো ভাই স্বপন ও তার সহযোগী সুমন অপহরণ করে নিকটবর্তী একটি ঘরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। দুই নরপশু ধর্ষণ শেষে ইতিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বাড়ির কাছের চুন্নু জমাদ্দারের বাগানে ফেলে রাখে। ঘটনার একদিন পর ৬ অক্টোবর ওই দুই ধর্ষক ইতির অভিভাবকের কাছে লাশের সন্ধান দেয়। এ ব্যাপারে নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা ফুল মিয়া ওই দিনই মঠবাড়িয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসমি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ৭ অক্টোবর সন্দেহভাজন ওই দুইজনকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতে আসামিরা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ প্রায় আড়াই মাস তদন্তের পর ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এদিকে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে জেলার সকল শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে। হত্যাকারী দুই ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে ওই বছরের ১৯ অক্টোবর উপজেলার তিন শতাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা এক ঘন্টার জন্য ক্লাস বন্ধ রেখে ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। শেষে শহীদ মিনার পাদদেশে সমাবেশে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তশূলক শাস্তি দাবি করেন।
পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি আব্দুর রাজ্জাক খান বাদশা জানান, মামাতো ভাই স্বপন ইতির বড় বোন বিথিকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। এতে বিথির পরিবার রাজি না হওয়ায় স্বপন প্রতিশোধ নিতে বন্ধু সুমনকে নিয়ে পরিকল্পনা করে যে, ইতিকে ধর্ষণ করে হত্যা করলে ইতির বাবা এবং নানা বাড়ির লোকজন এ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে আর এ সুযোগে স্বপন বিথিকে অপহরণ করে পালিয়ে যাবে।
মামলাটি বিচারের জন্য জেলা জজ গোলাম কিবরিয়ার আদালতে এলে বিচারক সর্বমোট ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামতসহ আনুসাঙ্গিক সব কিছু পর্যালোচনা করলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মেহেদি হাসান স্বপন ও সুমন জোমাদ্দারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন।
তিনি রায়ে আরও উল্লেখ করেন, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত এ দুজনকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এ ছাড়া তিনি দণ্ডিতদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং এই জরিমানার অর্থ ইতির মা-বাবাকে প্রদানের নির্দেশ দেন।