সিসি ডেস্ক: রেলওয়ের উত্তরোত্তর উন্নতি হলেও ঠেকানো যাচ্ছে না বিনা টিকিটের যাত্রী। জনবল সংকট ও স্টেশনগুলো বেড়া দিয়ে ঘেরা না থাকায় এই পরিস্থিতি। প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী বিনা টিকিট চলাচল করেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রতিদিন সারাদেশে (পুর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে) চলাচল করে ২৪১টি ট্রেন। এর মধ্যে ৮৬টি আন্তঃনগর ট্রেনে প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী চলাচল করে। উল্লেখ্য, টিকিট চেকারের (টিটি) মঞ্জুরিকৃত ৭শ’ পদের মধ্যে রয়েছেন ৩শ’ জন। অপর দিকে ১২০৫ জন স্টেশন মাস্টারের স্থলে রয়েছেন ৬৩১ জন। দেশের দুই অঞ্চলের ৪৫৮টি রেল স্টেশনের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ১৮০টি স্টেশন।
রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, রেলওয়েকে আধুনিক যুগোপযোগী যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা বছরে ছিল ৫ কোটি ৩০ লাখ। পর্যায়ক্রমে ট্রেনের যাত্রী বাড়ছে। সেবার মান বাড়ায় মানুষ আবার ট্রেনমুখী হতে শুরু করেছে। আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখও দেখতে শুরু করেছে রেল। গত বছর ট্রেনে চলাচল করেছে ৬ কোটি ৮০ লাখ যাত্রী।
এ বিষয়ে খোঁজ নেয়ার সময় জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১০ শতাংশ যাত্রী বিনা টিকিটে ভ্রমণ করে। এই হিসাব অনুযায়াী প্রতিদিন বিনা টিকিটের মোট যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। এক্ষেত্রে তদারকির অভাব রয়েছে। আবার স্টেশনগুলোতে ঘেরা বেড়া না থাকার কারণেও বিনা টিকিটের যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না। পূর্বাঞ্চলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্টেশনে এই সমস্যা প্রকট। স্টেশনের ঘেরা বেড়া না থাকায় বাড়ছে অপরাধীদের আনাগোনাও। এই সমস্যার কারণে রেল যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঠিক তেমনি অপরাধীদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
রেলওয়ের পরিচালক ( ট্রাফিক) সৈয়দ জহিরুল ইসলাম বিনা টিকিটে যাত্রী বহনের কথা স্বীকার করে বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার সুযোগ নেই। তবে মেইল ও লোকাল ট্রেনে কিছু যাত্রী বিনা টিকিটে ভ্রমণ করেন। তবে এ পরিমাণ তার বিবেচনায় অতি নগণ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বিনা টিকিটে কোনো যাত্রী যাতে ভ্রমণ করতে না পারেন সেজন্য প্রায়ই ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হচ্ছে। ট্রেনের টিকিট চেকার (টিটি) সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে জনবলের সংকট রয়েছে। ফলে সব ট্রেনে টিটি দেয়া সম্ভব হয় না। তারপরও যাত্রীদের শতভাগ সেবা দেয়ারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। তিনি বিশ্বাস করেন, ট্রেনে যারা চড়েন তারা তাদের দায়িত্ববোধ থেকেই টিকিট কাটবেন। তিনি আরো বলেন, অবকাঠামো ক্ষেত্রে রেলের অনেক উন্নতি হয়েছে। ঘেরা বেড়া (ফেন্সিং) নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে।
স্টেশন মাস্টার কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, রেল স্টেশনগুলোর প্রধান হচ্ছেন স্টেশন মাস্টার। জনবল সংকটের কারণে রেলওয়ের দুই অঞ্চলে ১৮০টি রেল স্টেশন বন্ধ রয়েছে। ওইসব স্টেশন পার হওয়ার সময় ট্রেনের গতি কমিয়ে আনতে হয়। এতে ট্রেন পরিচালনায় সময় বাড়ছে। অপরদিকে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোতে আন্তঃনগর, মেইল ট্রেন না থামলেও লোকাল ট্রেন থামে। জনবলের কারণে সেখানে নিয়মিত টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয় না। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী টিকিট কাটতে পারেন না। এসব কারণে বিনা টিকিটের যাত্রী বাড়ছে।
পূর্বাঞ্চল রেলের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চেকিং করার সময় বিনা টিকিটের অনেক যাত্রী ধরা পড়েন। তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় বিপুল অংকের জরিমানা। তবে চেকিংয়ে বিনা টিকিটের সব যাত্রী চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। একই অবস্থা রেলের পশ্চিমাঞ্চলে। তবে ট্রেনগুলোতে কর্তব্যরত এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে আন্তঃনগর ট্রেনেও বিনা টিকিটের যাত্রীরা ভ্রমণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অসাধু কর্মচারীদের পটেক ভারী হলেও রেলওয়ে রাজস্ব হারাচ্ছে।