রংপুর: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সন্তগৌরীয় মঠের অধ্যক্ষ মহারাজ যজ্ঞেশ্বর রায়কে (৫০) গলা কেটে হত্যাকান্ডের ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শি গোপাল এখন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অর্থপেটিক্স ওয়ার্ডে চিকিৎসাধিন। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তাকে উন্নত চিকিৎসা প্রদানের জন্য ৪ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার সকালে তাকে হাসপাতালে দেখতে যান স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মসিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় আহতের চিকিৎসার জন্য ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেণ প্রতিমন্ত্রী।
এসময় প্রতিমন্ত্রীর সাথে জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, অতি. পুলিশ সুপার আব্দুল্লা আল ফারুক, অতি. জেলা মেজিস্ট্রেট প্রিয় সিন্ধু তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
সকালে অর্থপেটিক্স ওয়ার্ডে চিকিৎসাধিন গুলিবিদ্ধ গোপালের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি গুরুর মৃত্যুর ঘটনা বর্নণা দিয়ে জানান, তিনি নিয়মিত ওই মঠে আসেন। ঘটনার দিন সকাল ৭ টার দিকে তিনি রান্না ঘরে কাজ করছিলেন আর কীর্তণ করছিলেন। এসময় গুরুজির পাশের রুম থেকে হঠাৎ চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। আর্তচিৎকারটি ছিল তার গুরু যোগেশ্বরের সেটা তিনি বুঝতে পান। চিৎকার শুনে তিনি রান্নাঘর থেকে বের হয়ে এসে দেখেন প্যান্ট ও জ্যাকেট পরিহিত দুজন লোক ঘরের সামনে দাড়িয়ে আছে। তাদের মধ্য থেকে একজন তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, খুব আরামে আছিস। মনের সুখে গান গাচ্ছিস। এই বলে পিস্তল দিয়ে তার বুক বরাবর গুলি করে দুবৃত্তরা। গোপাল বলেন, আমি মাথা নিচু করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। এসময় আমার বা হাতে দুটি গুলি লাগে। এরপর তাদের পিস্তল থেকে গুলি বের হচিছলনা। তখন তারা প্যান্টের পকেটে হাত দেয় গুলি বের করার জন্য। এই ফাঁকে তিনি মঠের দেয়াল টপকে বাইরে বের হয়ে এসে চিৎকার করে লোকজনদের ডাকতে থাকেন। গোপাল আরো জানান, দেওয়াল টপকিয়ে বাইরে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। পরে শুনি মোটর সাইকেল যোগে ৩ জন এসেছিল। দুজন ভিতরে ঢুকে গুরুজিকে জবাই করে হত্যা করে। বাইরে একজন মটর সাইকেল নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকে। গুরুকে হত্যা করে তাকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে নিবিঘেœ চলে যায দুবৃত্তরা। গোপাল জানায় ১৯৯৮ সালে মঠটি প্রতিষ্ঠা করেন মহারাজ যজ্ঞেশ্বর রায়। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি মঠের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রমেক হাসপাতালের পরিচালক আ.স.ম বরকতুল্লাহ জানান, আমি গোপালকে দেখতে অর্থপেটিক ওয়ার্ডে গিয়েছিলাম। তার বাম হাতে গুলি লেগেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসা প্রদানের জন্য রমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জাকির হোসেনকে প্রধান করে এবং প্রফেসর ডা. সৈয়দ মো. আবু তালেব, সহযোগী অধ্যাপক ডা. তোফায়েল আহমেদ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলামকে সদস্য করে ৪ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা গোপালকে ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য মতামত দিয়েছেন।