ঢাকা: রাজধানীর শাহজাহানপুরে পাইপের ভেতরে পড়ে নিহত শিশু জিহাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশ স্থগিত করেনি চেম্বার আদালত।
তবে দুই সপ্তাহের মধ্যে রাস্ট্রপক্ষকে আপিল বিভাগের পূণাঙ্গ বেঞ্চে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়েছে।
রাস্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
রিটকারির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করীম ও ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম এবং রাস্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম বলেন,‘ রাস্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়েছে কিন্তু চেম্বার আদালত স্থগিত না করে নিয়মিত বেঞ্চে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়টি দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয়েছে’।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিশু জিহাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে রায় দেয় হাইকোর্ট।
ওইদিন সংক্ষিপ্ত রায়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ কতটাকা ও কারা কারা এ ক্ষতিপূরণ দিবে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। পূণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়ে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে এখনো পর্যন্ত পূণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি। সংক্ষিপ্ত আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাস্ট্রপক্ষ। আজ শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেনি।
তবে গত বছর এ বিষয়ে জারি করা রুলে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে বিবাদী করেছিল আদালত।
২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শাজাহানপুর রেলওয়ে মাঠের পাম্পের পাইপে পড়ে যায় জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর ২৭ ডিসেম্বর বিকেল তিনটার দিকে জিহাদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর ২৮ ডিসেম্বর জিহাদের পরিবারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে চিল্ড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। একই দিন জিহাদকে জীবিত উদ্ধারে সরকারি সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা তদন্তে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে অন্য একটি রিট আবেদন দায়ের করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ মাইনুল হক।