• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ক্যান্সার থেকে মুক্তি দেবে মিউজিক!

musicস্বাস্থ্য কথা ডেস্ক: দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সার মোকাবেলায় বিজ্ঞানীদের গবেষণা আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার যেন শেষ নেই। ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ ও থেরাপি আবিষ্কারসহ বহুমুখি প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, মন দিয়ে মিউজিক ভিডিও তৈরির মাধ্যমে মাত্র নতুন দেখা দিয়েছে এমন ক্যান্সারকে সারিয়ে তোলা সম্ভব। বিবিসি।

এর নাম দেয়া হয়েছে মিউজিক থেরাপি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত বিশেষত কিশোর বয়সের ছেলে মেয়ে এবং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এই থেরাপি।

বিবিসি জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী ও গবেষক ক্যান্সারে আক্রান্ত ১১ থেকে ২৪ বছর বয়সী রোগীদের একটি গ্রুপের উপর গবেষণা চালিয়েছেন। তিন সপ্তাহ ধরে রোগীদের ওই গ্রুপটি নিয়মিত একটি মিউজিক ভিডিও তৈরি করে। তাতে গবেষকরা বেশ অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা ও নতুন সম্ভাবনা দেখতে পান।

গবেষণায় দেখা যায়, ক্যান্সারপূর্ব আগের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পান ওই রোগীরা। সেইসাথে তাদের পরিবার ও বন্ধুদের সাথেও সম্পর্কের বেশ উন্নতি ঘটে। অথচ এর আগে পর্যন্ত তারা সবাই ক্যান্সারের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ কোষগুলোর ট্রান্সপ্লান্টের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

ওই তিন সপ্তাহে মিউজিক ভিডিওটি তৈরি করতে তাদেরকে কিছু কাজ বেশ মনোযোগ দিয়ে করতে হয়। গানের লিরিক লেখা, তারপর সেটায় সুরারোপ, সেই সুরের কণ্ঠ ধারণ করা। এরপর সেই সুর, আর তার লিরিক সেন্স, গল্প সবকিছু অনুযায়ী অনেকগুলো ভিডিও চিত্র ধারণ করতে হয়। তারপর সেসব ভিডিওর সিকোয়েন্স মিলিয়ে সমন্বিত রূপ দিতে হয়।

একইসাথে কোন ধরনের আইডিয়া নিয়ে ভিডিওটি তৈরি করবে, কেন করবে, কিভাবে করবে এবং এসব বিষয়গুলো কিভাবে কমিউনিকেটিভ করে তুলতে হবে—এসব নিয়েও কাজ করতে হয় তাদের।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির ড. জোয়ান হাসে বলেন, এই থেরাপির মধ্য দিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত এই “অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ে এবং তরুণ তরুণীরা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। সেইসাথে তারা অসুস্থতা কাটিয়ে তোলার সক্ষমতাও অর্জন করে।”

আরো অগ্রসর ফলাফল পাওয়ার উদ্দেশে ওই গ্রুপটিকেই ১০০ দিনের আরেকটি থেরাপি দেয়া হয়। তাতে দেখা যায়, তারা আগের ৩ সপ্তাহের থেরাপির চেয়ে অনেক অনেক বেশি ভাল বোধ করছে। তারা বন্ধুবান্ধব, পরিবার পরিজনের সাথেও সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরো ঘনিষ্ট করে তুলতে সক্ষম হয়।

ব্রিটেনের ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে জানায়, এ ধরনের মিউজিক থেরাপি ক্যান্সার আক্রান্ত লোকজনকে বেশ সাহায্য করতে পারে। মানসিক যন্ত্রণা, দুশ্চিন্তা, হতাশা, উদ্বিগ্নতা কমিয়ে রোগীদেরকে তাদের স্বাভাবিক ও গুণগত জীবনে ফিরিয়ে আনতে গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এ থেরাপি।

শুধু তাই নয়, এ থেরাপি ক্যান্সারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপসর্গ নির্মূল করে দেয়। সবচেয়ে বড় যে কাজটি করে তাহল, অপরাপর চিকিৎসার ফলে আক্রান্ত রোগীর শরীরে যে ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে সেসব প্রতিক্রিয়াগুলোকেও দূর করতে বিশেষ সাহায্য করে।

গবেষণাটি ক্যান্সার জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ