চট্টগ্রাম: চলে গেলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রঙ্গলাল সেন। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।
শিক্ষাবিদ রঙ্গলাল সেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক অধ্যাপকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ড. রঙ্গলালের মরদেহ কলাভবন প্রাঙ্গণে রাখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ৩৭ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে বিভিন্ন পদে অধ্যাপনার পর ২০০২ সালে অবসরে যান ড. রঙ্গলাল সেন। তবে পরে আরো পাঁচ বছর খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে কাজ করেন একই বিভাগে। ২০১১ সালে আরো চারজনের সঙ্গে তাকে পাঁচ বছরের জন্য জাতীয় অধ্যাপক ঘোষণা করে সরকার।
রঙ্গলাল সেন ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও এবং পরের বছর স্নাতকোত্তর পাস করেন। সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে তিনিই ছিলেন প্রথম ছাত্র যিনি এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে পিএইচডি ডিগ্রি পান এই সমাজবিজ্ঞানী।
রঙ্গলাল সেন কেবল শিক্ষকতাই করেননি, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনাকালে সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যসূচি প্রণয়নের কাজেও অংশ নিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ সমাজ বিজ্ঞান সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বাংলা একাডেমি, এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদেও বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেন। বেশ কয়েকটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নমূলক সংগঠনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ড. রঙ্গলালের লেখা, অনূদিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ২৩।
তাঁর স্ত্রী কমলা সেন প্রায় বিশ বছর ঢাকার উদয়ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ১৯৩৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের মৌলভীবাজারে রঙ্গলাল সেনের জন্ম।