ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলার নির্ভুত পল্লীতে এ যুগের লাইলী মজনুর প্রেম কাহিনী মতো জাতি ভেদাভেদকে কেন্দ্র করে প্রেমিকের মৃত্যুর ২মাস পর প্রেমিকা বিষপানে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের পর প্রেমিকার মরা দেহ কোথায় যাবে এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনার ঝঁড় বইছে, লাশ চিতায় নাকি কবর স্থানে যাবে। এ ব্যাপারে ডোমার থানায় ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং-৭/১৪, তারিখ: ১০/০৩/১৪ ইং ।
জানা যায়, সোমবার সন্ধায় জেলার ডোমার উপজেলার বামুনীয়া ইউনিয়নের খামার বামুনীয়া নাটুয়া গঞ্জ গ্রামের শ্রী অক্ষয় কুমার রায়ের প্রথম কন্যা ও বোড়াগাড়ী বিএম কলেজের এইচএসসির (বিএম) পরীক্ষার্থী লিপা রানী রায় (১৯) একই এলাকার পার্শ্ববর্তী বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও পূর্ব বোড়াগাড়ী গ্রামের মো: জহুরুল ইসলামের প্রথম পুত্র মো: হুমায়ূন ফরিদ (লাজূ) এর সঙ্গে দীর্ঘ দুই বছর প্রেমের সম্পর্ক চলার মধ্যে দিয়ে গোপনে লিপা রানী রায় হিন্দু ধর্ম ও নাম পরিবর্তন করে শরীয়ত মতে মুসলিম ধর্ম গ্রহন করে। পরবর্তীতে মুসলিম নাম ধারন করে মোছা: হুসনে আরা (লাইজু) পিতা অক্ষয় কুমার রায় (মাষ্টার) নীলফামারীতে কোর্ট ম্যারেজ ও রেজিষ্টির মাধ্যমে বিয়ে করে এলাকা ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে দুজনে পাড়ি জমায়। পরে এরই জের ধরে প্রেমিকার বাবা শ্রী অক্ষয় কুমার রায় বাদী হয়ে ডোমার থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করলে প্রেমিকা এবং প্রেমিক দুজনে নীলফামারী কোর্টে উপস্থিত হলে প্রেমিকার জবান বন্দি অনুযাযী অপহরন মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। পরে প্রেমিকার বাবা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়স ও পাগল বলে কোর্টে কাগজ পত্র দাখিল করলে আদালত সেটি পরীক্ষা করার জন্য প্রেমিকাকে রাজশাহী সেফ কাষ্টরীতে রাখার নির্দেশ দেয় এবং হুমায়ূন ফরিদ (লাজূ) কে বেকসুর খালাস করে। পরে হুমায়ূন ফরিদ (লাজূ) তার বিবাহিত স্ত্রীর খোজ খবর ও উদ্ধারের জন্য রাজশাহী হইতে নীলফামারী কোর্টে যাতায়াতের এক পর্যায় গত ১৪/০১/১৪ইং তারিখে মো: হুমায়ূন ফরিদ (লাজূ) রা¯তায় জ্ঞান হারালে তাকে বিরামপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানান। পরে তার অবস্থা আশংকাজনক দেখা দিলে নিজ এলাকায় ডোমার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাট করলে নেওয়ার সময় রাস্থায় ১৫/০১/২০১৪ইং তারিখে মারা যায়। মোছা: হুসনে আরা (লাইজু) স্বামী দাবী করে মৃত্য দেহ ও কবর দেখার জন্য আকুতি মিনতি করেছে। কিন্তু তার কথা কেউ শুনেনি। অন্যদিকে এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষ দর্শীরা সাংবাদিককে জানান প্রেমিক হুমায়ূন ফরিদ (লাজূ) প্রেমিকা হুসনে আরা (লাইজু)কে উভয় অভিভাবকরা তাদের ইচছার বিরুদ্ধে বাধা হয়ে দাঁড়ার কারনে অকালে দুটি তাজা প্রান ভালোবাসতে গিয়ে হারিয়ে যায়। প্রেমিকা হুসনে আরা (লাইজু)র ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বাবা মা আটকে রাখার কারনে প্রেমিক মারা যাওয়ার ২ মাস পরে সোমবার বিষ পান করে ছটপট করতে থাকলে তার বাবা-মা ডোমার হাসপাতালে নিয়ে আসে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় কর্তব্যরত ডাক্তার তার মৃত্যু ঘোষনা করলে এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। ডোমার থানা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরন করেছে ।এ রির্পোট লেখা লাশ মর্গে রয়েছে।
এবিষয়ে প্রেমিক হুমায়ূন ফরিদ (লাজূ) এর বাবা জহুরুল ইসলাম জানান, রাজশাহী হইতে নিজ এলাকা ডোমার আসার সময় ওই গাড়ীতে আমি এবং মেয়ের বাবা অক্ষয় মাষ্টার একই ট্রেনের বগিতে ছিলাম কিন্তু আমার ছেলের মৃত্যুর কারন ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছুই বলা যাচেছ না। হত্যা না কি আত্মহত্যা। আমার ছেলের বউ হিসাবে তাকে আমি কবর দেওয়ার দাবী করেছি হুসনে আরা (লাইজু) এর বাবা শ্রী অক্ষয় কুমার রায় (মাষ্টার) জানান আমি হিন্দু আমার মেয়েকে মুসলিমের সঙ্গে সর্ম্পক করতে দিতে পারি না। তাই হয়তো আমার মেয়ে বিষ পান করেছে। আমি যথাযত চেষ্টা করেছি হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বাঁচানোর। এ ব্যাপারে কর্তব্যরত ডাঃ সার্জানা আফরিন জানান,পয়জনিং এর কারনে মেয়েটি মারা গেছে। ডোমার থানা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (তদন্ত) আইয়ুব জানান, মেয়ের লাশ এখনো আসেনি (বিকেল ৫টা)। আদালতের দেয়া রায় অনুযায়ী লাশ নির্দেশিত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।