ঢাকা : বিএনপি ঢাকা মহানগর কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা।
তিনি বলেছেন, নতুন নেতৃত্ব তৈরির সময় এসেছে। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি তিনি আমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেবেন।
বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনের ভাসানী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার এই ঘোষণা দেন।
ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ থাকছেন বলেও জানান তিনি। খোকা বলেন, ‘আমি কারাগারে থাকাকালীন এক চিঠির মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মহানগর শাখাকে শক্তিশালী এবং সংগঠনকে পূনর্গঠনের বিষয়ে মতামত জানিয়েছিলাম।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘৯৬ সাল থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ বছর মহানগর বিএনপির দায়িত্ব পালন করেছি। এখন আর এ দায়িত্ব পালন করতে চাই না। নতুন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মির্জা আব্বাসের নাম প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর বিকল্প হিসেবে আব্দুল আউয়াল মিন্টুও দায়িত্ব নিতে চাননি। একজনকে তো দায়িত্ব নিতেই হবে। তাই আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগঠক আ স ম হান্নান শাহকে দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে।’
নতুন কমিটিকে বর্তমান কমিটি সার্বিক দিক দিয়ে সহায়তা করবেন বলে জানান খোকা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন মহানগর শাখার দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
খোকা বলেন, পার্টির ঐক্যই বড় কথা। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে এনে সব হয়ে যাবে এটা ভাবলে হবে না। সব নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে জন্য সব বিভেদ ভূলে একাত্ম হতে হবে। নতুন কমিটি গঠনে সংগঠন শক্তিশালী হবে এবং সরকার পতনের আন্দোলনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন দলের এই নির্ভরলশীল নেতা।
গত সরকারের আমলে সারাদেশে তুমুল আন্দোলন জমলেও ঢাকায় কেন প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, তারও ব্যাখ্যা দেন খোকা। তিনি বলেন, ‘আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একজন মানুষ। দীর্ঘ দিন আন্দোলন করেছি। কিন্তু এ সরকার যেভাবে দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে, তাতে হয়তো আন্দোলন কাক্সিক্ষত রূপ পায়নি। তবে পুরোপুরি ব্যর্থও হয়নি।
‘বর্তমানে দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্রও নেই’ অভিযোগ করে খোকা আরো বলেন, গতানুগতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। এ জন্য নতুন কৌশল ঠিক করতে হবে। একদিকে কৌশল, অন্যদিকে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমেই এ সরকারকে পরাজিত করতে হবে।
দলে কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,‘কে ব্যর্থ, আর কে সফল-তা নিয়ে দলের মধ্যে ব্লেম গেম (দোষারোপ) চলছে। একজনের দোষ আরেকজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। এমন দোষারোপ প্রক্রিয়া মূলত সরকারকে সহযোগিতা করার অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘মহানগর বিএনপির আন্দোলন বেগবান করতে ৮ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। আমি জেলে যাওয়ার পরতো কোনো আন্দোলন হয়নি। তাহলে কি সবাই ব্যর্থ? এভাবে বিচার করলে হবে না। সার্বিক দিক নিয়ে বিবেচনা করতে হবে।’
সাদেক হোসেন খোকা বলেন, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। তাই ভেদাভেদ ভূলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ কাইয়ুম, কাজী আবুল বাশার, আবদুল লতিফ, বজলুল বাছিদ আঞ্জু, আবদুল আলিম নকী, শামসুল হুদা, আলী আজগর মাতব্বর প্রমূখ।