সিসি ডেস্ক: পেরুর মাচুপিচু সভ্যতার কথা কমবেশি সবাই জানেন। কিন্তু সবাই এটা জানেন না যে বিদেশি অনেক পর্যটকই এখানে এসে নিজের সর্বশেষ বস্ত্রটুকু বিসর্জন দেন। আর এই বস্ত্র বিসর্জন ঠেকাতে চাইছে পেরুর সরকার ও সেখানকার জনগণ।
অনেক পর্যটকের দাবি, এই ঐতিহাসিক এবং পবিত্র ধ্বংসাবশেষে তারা বস্ত্র বিসর্জন দিয়ে তাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেন। যদিও পেরুবাসী অবশ্য এই বক্তব্য মানেন না।
গত মাসে মাচুপিচুর একটি ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায় দুই তরুন তরুনী মাচুপিচুর ধ্বংসাবশেষের ওপর দিয়ে নগ্ন অবস্থায় দৌড়াচ্ছে। পেরুর স্থানীয় গণমাধ্যম পেরুভিয়ান ডেইলি এল কমার্সিকো এবিষয়ে রিপোর্ট করে। আর এই রিপোর্টের পরপরই দেশটির সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
ভিডিওতে যে দুজনকে দেখা যাচ্ছিল তাদের মধ্যে একজন অস্ট্রেলিয়ার সিডনির নাগরিক লিয়াম টিমোথি ও অন্যজন নিউজিল্যান্ডের টপ ম্যাথিও জেরার্ড। তারা ধ্বংসস্তুপে নগ্ন হয়ে ছবি তুলছিল।
দেশটির পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, এই দুই দর্শনার্থীর ক্যামেরা থেকে ছবি এবং ভিডিও ডিলিট করা হয়েছিল। কিন্তু অন্য কারো করা ভিডিওটি গোটা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা তাদের বলেছিলাম যে এখানে ছবি তোলা এবং ভিডিও করা নিষিদ্ধ।
কিন্তু শুধুমাত্র এই দুই দর্শনার্থীই নয় বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে আসা অনেক মানুষই এই সভ্যতার ধ্বংসস্তুপের এখানে এসে নগ্ন হয়ে যান।
ইন্টারনেটে এমনি আরো একটি ছবি বেশ সাড়া তোলে। সেখানে দেখা যায় চুল দাড়ি সম্বলিত অ্যামিকে রাব নামের একজন ইসরায়েলি নগ্ন অবস্থায় ধ্বংসস্তুপের ওপর বসে আছেন। এবিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এটা এমন একটা সময়ই করেছিলাম যখন আশেপাশে কেউ ছিল না। আমি জানতাম যে এটা পেরুর মানুষের জন্য একটা অভিশপ্ত স্থান। কিন্তু সবকিছুর বাইরে আমি পেরুর মানুষদের সম্মান করি।’
পেরুর সাধারণ মানুষের দাবি, যারা এখানে নগ্ন হতেই আসেন তারা তাদের সভ্যতা এবং সংস্কৃতির প্রতি কোনো সম্মান দেখায় না।