বাংলাদেশ
তোমার চোখের ভরসা-জাগানো গূঢ় নির্ভরতায় আমি প্রথম পৃথিবীটাকে পড়ি। আর আমার
মনে পড়ে যায় মিন্টু রোডের পান্থ পাদপ গাছটির টলটলে চোখ দুটির কথা। রোজ সকালে
আমাদের দেখা হতো উদয়ন গেটে। পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় দুটি চোখ যথেষ্ট নয় কি? অথচ
মরহুম খাজাঞ্চি এবং তাদের উত্তরসূরি নির্বোধগুলো তোমার চোখের দিকে না তাকিয়ে, সায়ার
গিঁট খুলতে ব্যস্ত পার করে দেয় আস্ত একটা জীবন। আর পাজি মোল্লদের থেকেও অসম্ভব
সূক্ষতায় তোমার স্তনের দিকে তাকিয়ে বিচ্ছুগুলো শুধু গুলবাহার রঙ দেখে; প্রচ্ছদটা আসলেই
বুঝে না। একবার এক জনমঞ্চে এসব কামতন্ত্র কামিয়াব প্রত্যাশী কিংবা পাক জমিনে পূজাস্বত্ব
প্রত্যাশীদের বিবরণ দিয়ে বলেছিলাম- এদের কপালে সত্যি খারাবি আছে। পৃথিবীর সব মানুষের
চোখে তখন তোমার চোখের ভরসা-জাগানো গূঢ় নির্ভরতার ঝিলিক। আরেকবার সমুদ্র পার হতে
গিয়ে হঠাৎ নীল জলের উপর চোখ পড়লে বিস্মিত হয়েছিলাম। তখন সমুদ্রকে মনে হয়েছিলো
তোমার চোখ।
এবার প্রজন্মের কথাটা বলি, তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে দিনে দিনে আমি এক মহানায়ক
বনে যাচ্ছি। নীড়, তুমিও কি দিনে দিনে ফলবতী হয়ে ওঠছো না?
হামাগুড়ি
পৃথিবী একটা প্রাচীন ইমারত। আমি শুয়ে আছি নিজস্ব বিছানায়
সমস্ত সঞ্চয় আঁকড়ে শুয়ে আছে প্রিয়তম নীড়, লজ্জাবতী ঘুম
এবং উদভ্রান্ত সময়। অভ্যাসবসে নিজেকে স্থাপন করলাম তার
উরুর ফাঁকে, বুকের তুলো তুলো ঘাসে, ঠোঁটের উষ্ণতায়। ঘুম
বিদায় নিলো। সময় ফ্রিজ হয়ে গেলো আর সফ্টওয়ার সে দৃশ্য
ডাউনলোড করলো জোরেশোরে। এবার তবে মুক্তি- গাঢ়
নিঃশ্বাসে স্বপ্নরা আলগোছে এগোতে থাকলো আর আমি ঘরে
ফিরি-ফিরি না এই করতে করতে নিজেকে হারালাম দার্শনিক
সত্যের ব্যক্তিক মীমাংসার মতো।
বেফাঁস কথাবার্তা- ১
উপুড় হয়ে তাকিয়ে আছি একটা দিব্য চোখ। সাসপিশাস, হাইলি সাসপিশাস ! অসুস্থ্য ডাইনামো
কিংবা দুরারোগ্য বেলুনের টালমাটাল ঘুর্ণি এবং ক্রমশ অগ্রসরমান আয়ুরেখা। কালস্রোত, ক্রমাগত
ইতস্তত দৌড়ে ত্রিকাল এক্সপ্রেসন। পুঙ্গি হাতির সুঁড়ের মতো আলজিভ উল্টে একদল কালা পাহাড়ের
ভেংচি কিংবা বর্ণান্ধ নক্ষত্রকে আকাশে সেঁটে নাইফ-থ্রোইং। থ্রিলিং , হ্যাব্বি থ্রিলিং ! প্যাকবন্ধি ফ্যানটাসি
আর রঙচঙা দৃশ্যের খেয়োখেয়ি। দিগি¦দিক ছুটছে হাওয়ার রথ আর ব্লুশাইন ঘোড়াগুলো চঞ্চল ও অসহিষ্ণু।
আত্মারা অসংখ্য কাঁচদেয়াল- যেনো দুই দিকেই ভিতর-বাহির। অন্ধকার। ক্যারাব্যারা। মহাবিস্ময় !
ইঁদুরের বনে সবুজের ক্যারিকেচার এবং বানরের ভেলকি নাচে প্রেম, কাম, লোভ আর স্ফুলিঙ্গের
ভয়ংকর গাঁজাখুরি ঢঙ। আহারে, চোখের স্খলন- পাওয়ারফুল স্খলন! সত্য কিংবা মিথ্যা বেঘোরে ঘুমুচ্ছে।
ননসেন্স ! কীসের এতো গর্জন? নারকীয় গান। একটা গেরুয়া পোষাক পরা মাছ মঠফেরত বানরের সাথে
বিতণ্ডা। দুরভিসন্ধি! চক্রাবদ্ধ মুসাফির সময়। যেনো একটু পরই সমস্ত রক্ত ভক্ষণ করবে একটি নীল নাভি।
তৃষ্ণা, হায়রে কুমারী তৃষ্ণা! বীর্য, রক্ত,পুঁজ, পায়ুপথে প্যাচপেচে দাগ, পচা গলা সভ্যতার সাথে মহাঅভিসার।
বেফাঁস কথাবার্তা- ২
৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলে একটা লাল বেড়ালের লেজ। আর তার কেন্দ্রে বসে একটা কুলাঙ্গার কুকুরের
যতোসব তেলেসমাতি কাণ্ড। ওদিকে, সবুজ উর্দি পরা ঘোড়াগুলো চঞ্চল ও অসহিষ্ণু। কেউ কেউ
বিপন্ন প্রায়, এখন ঝিমুচ্ছে। মাটিরঙ হাতিটিকে ক্রমাগত ধর্ষণ করছে একপাল মূর্খ শুয়োর এবং
ওদের লোলুপ চোখ হাতিটির শরীর থেকে দ্রুত খুলে নিচ্ছে সমস্ত পালক আর দাঁতগুলো ঠিক
বসে যাচ্ছে স্তনের বোঁটায়। এমনকি হাতিটির যোনিপথই ওদের গোপন পানশালা। স্কুলপালানো
দলচ্যুত উল্লুকটি এসব গোয়েন্দা মার্কা দৃশ্য আবিষ্কারের মাঝপথে খেই হারিয়ে ড্রাগাসক্ত, ধুঁকছে।
আর তার সঙ্গিনী শুকুনটির একটা তরুণ হাড়গিলের সাথে চলছে ননস্টপ চ্যাটিং; নিশ্চয় মাগী ওর
সাথে পালানোর তালে আছে। ইঁদুরেরা জাতবিভেদ ভুলে সার্জিক্যাল ইউনিফর্মে রাস্তায় নেমেছে।
দিনরাত কুটকুট কেটে চলেছে তলপেটের বিবস্ত্র কপাট কিংবা জরায়ুর আধুনিক ক্যারিকেচার।
একটা গেরুয়া পোষাক পরা মাছ মঠফেরত বানরের মতো কাঁচুমাচু চেহারায় বাঘ, সিংহ এমনকি
অজগরের সাথেও ফষ্টিনষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। বলে রাখা ভালো, এসব নিয়ে লাল বেড়ালের কোনো
রকম হা-পিত্যেশ নাই এবং এরা সকলেই দুপেয়ো আর ওদের চেহারা ঠিক বাতাসের মতো।