সিসি ডেস্ক: মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন জাহারি আহমদ শাহ’র মেয়ে বিমান নিখোঁজ হওয়ার দিনটিতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ভিক্টোরিয়ায় অবস্থান করছিলেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত একাধিক অনলাইন সংবাদপত্র গতকাল এ খবরটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, আয়শা জাহারি (২৭) গিলংয়ে অবস্থিত ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য বিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন। তার বয়ফ্রেন্ড আনোয়ারের বাড়ি মালয়েশিয়ায়। আনোয়ারও একই বিষয়ে ২০১১ সালে ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। জাহারি ও আনোয়ার ভিক্টোরিয়ায় বসবাসের আগে কুয়ালালামপুরের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। কুরিয়ার মেইল ডটকম ওয়েবসাইটে ক্রিস্টিন শর্টেন ও সিনডি ওকনার লিখেছেন, আয়শা ও আনোয়ারের মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানোর খবরটি এলো এমন এক সময় যখন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা খবর দিয়েছে আয়শার পিতা তার বাড়িতে ফ্লাইট সিমুলেশন নিয়ে একটি প্রজেক্ট করেছিলেন। ওই সিমুলেশনে দেখা যাচ্ছে আকাশে উড্ডয়নরত একটি উড়োজাহাজ কিভাবে বিভিন্ন ভাবে ওঠানামা এবং চলাচল করতে পারে। এই সিমুলেশনের কাজটি তিনি তৈরি করেছিলেন তার বাড়িতেই। পুলিশ এটি জব্দ করেছে। বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়টি নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। কারণ তারা বুঝতে চাইছেন, এ সিমুলেশন দিয়ে বিমানকে রাডার ফাঁকি দিয়ে কোন একটি দ্বীপে অবতরণ করার মতো দৃশ্যকল্প পাইলট জাহারি কল্পনা করেছিলেন কিনা।
জাহারি (৫৩) এর আগে অনলাইনে কিছু ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেসব ছবিতে আলামত মিলছে, সেগুলো বানাতে তিনটি বৃহৎ কম্পিউটার মনিটর এবং অন্যান্য এক্সেসরিজ ব্যবহার করা হয়েছিল।
জাহারির একজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেছে অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক কুরিয়ার মেইল। ওই বন্ধুটি বলেছেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জাহারি সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা সত্য নয়। এটা উদ্ভট। তিনি চমৎকার ভদ্রলোক এবং সন্তানদের প্রতি স্নেহবৎসল। কয়েক দিন ধরে তার সম্পর্কে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে বিষয়ে ছাপা হচ্ছে তা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। তারা যেন পাইলটকেই সব কিছুর জন্য দোষী করতে ব্যাকুল হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অনুমাননির্ভর খবর একটি পবিবারকে হত্যা করার সমতুল্য।
এদিকে আয়শা সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক সাহায্য-সহযোগিতা ও সহানুভূতির আশ্বাস পেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে বন্ধু-বান্ধবরা তার পাশে দাঁড়িয়েছে। এটা অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া উভয় স্থানে ঘটেছে।
মালয়েশীয় ট্রাক স্প্রিন্ট সাইক্লিস্ট আজিজুল হাসমি মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত একজন অ্যাথলেট। তিনি তার ৩৯ হাজার টুইটার অনুসারীর উদ্দেশে লিখিছেন- ক্যাপ্টেন জাহারি আমাদের বন্ধুর পিতা। তার সম্পর্কে যে খবর বেরিয়েছে তা হূদয়বিদারক। ওই বিমানের সব যাত্রীর প্রতি সহানুভূতি রইল। বিধাতার কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন তাদের সবাইকে নিরাপদে রাখেন। গত ৯ই মার্চ নাজমিন আজমান ফেসবুকে লিখেছেন, আয়শা জাহারি খালাপ ফাইজা খানম মুস্তফা খান এবং পরিবারের সদস্যরা আপনারা শক্ত থাকুন। আয়শার পিতাসহ বিমানের সব যাত্রীর জন্য আমরা দোয়া করছি।
৮ই মার্চ জয়নুর নইম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আয়শা তুমি সাহস হারিও না। শক্ত থাকো। তুমি ও তোমার পরিবারের জন্য শুভ কামনা রইলো।’
আমিরা হানান লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় বন্ধু আয়শা তুমি দয়া করে শক্ত থাকো। আমরা সবাই জানি তোমার পিতা একজন ভাল পাইলট।’
ক্যাপ্টেন শাহের ব্যক্তিগত ফেসবুকে গতকাল আকস্মিকভাবে অপসারিত হয়েছে।
নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে কর্তৃপক্ষ গতকাল ১০ দিনে পুলিশ বিশেষভাবে পাইলট জাহারি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেয়। ইউটিউবে একটি ভিডিও ক্লিপ গতকালই প্রকাশ করা হয়েছিল। তিন মিনিটের এ ভিডিও ক্লিপটিতে ক্যাপ্টেন জাহারিকে একজন মানবিক বন্ধুবৎসল এবং পরিবারের প্রতি যত্নশীল মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার পারিবারিক জীবন সম্পর্কেও সেখানে একটি সুন্দর বিবরণ রয়েছে। ভিডিও ক্লিপটিতে ক্যাপ্টেন জাহারি তিন দশক আগে একজন তরুণ পাইলট হিসেবে কিভাবে জীবন শুরু করেছেন তার উল্লেখ রয়েছে। এতে তাকে একজন প্রেমময়, সংবেদনশীল, উদার, শান্ত, ক্রীড়ামোদী, বুদ্ধিদীপ্ত, সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
ক্লিপটির শেষে লেখা, ‘প্লিজ কাম হোম, উই মিস ইউ।’ উৎসঃ manabzamin