লালমনিরহাট প্রতিনিধি: পানি উন্নয়ন বোডের ডালিয়া পওর বিভাগের ২ কোটি টাকার ৩টি গ্রুপের টেন্ডারের কাজ শাসক দলীয় ঠিকাদাররা ভাগা-ভাগি করে নিয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবার রহমানের যোগসাজসে কয়েক লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে ওই টেন্ডারের কাজ ভাগা-ভাগি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে তিনটি গ্রুপের টেন্ডারের কাজে সাধারণ ঠিকাদাররা অংশ নিতে পারেনি। টেন্ডারের ওই টাকা ও কাজ ভাগা-ভাগি নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে তিস্তা ব্যারেজ’র অবসর এলাকায় এক সংসদ সদস্যের পুত্রের উপস্থিতিতে শাসক দলের ঠিকাদার-সংসদ সদস্য’র পুত্রের লোকজনদের মধ্যে হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে।
তথ্য মতে, লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্পের পরিচালনা ও রক্ষণা বেক্ষণ (পওর) বিভাগের তিস্তা ব্যারেজের অবসরের পিছনে পুকুর খনন, হাতীবান্ধা-জলঢাকা উপজেলার সীমান্তবর্তী চর ডাউয়াবাড়ী এলাকায় ১ কিলোমিটার স্পার রক্ষনা বেক্ষন ও একই এলাকায় সিসি ব্লক নির্মান, জিও টেক্সটাইল এর উপর সিসি ব্লক প্লেসিং ও ডাম্পিং কাজে ৩ টি গ্রুপের ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার টেন্ডার আহবান করা হয়। সে মোতাবেক গত ৯ মার্চ টেন্ডারের সিডিউল বিক্রির শেষে তারিখ ছিল। ওই দিন স্থানীয় শাসক দলীয় ৩ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ কাজের বিপরীতে ৯৭ টি সিডিউল ক্রয় করেন। ১০ মার্চ টেন্ডার দাখিলের দিন ধার্য ছিল। ওই দিন শাসক দলীয় কতিপয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাত্র ৯ টি টেন্ডার দাখিল করেন। শাসকদলীয় ঠিকাদারদের প্রত্যক্ষ মদদে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী সাধারণ ঠিকাদারদের টেন্ডার দাখিলে বাধা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে কয়েকজন সাধারণ ঠিকাদার মোবাইল ফোনে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অভিযোগ করলেও তিনি কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করেন নাই। ফলে সাধারণ ঠিকাদাররা ওই টেন্ডারে অংশ নিতে পারেনি।
নাম না প্রকাশ শর্তে তিস্তা ব্যারেজের জনৈক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নীলফামারী জেলার এক সংসদ সদস্যদের পুত্রের উপস্থিতিতে তিস্তা ব্যারেজ’র অবসরে ওই টেন্ডারের কাজ ও টাকা ভাগা-ভাগি নিয়ে একটি বৈঠক বসে। রাত ২ টার দিকে শাসকদলের ঠিকাদারদের সাথে সংসদ সদস্য’র পুত্রের লোকজনের হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় একজন ঠিকাদার উত্তেজিত হওয়ার এক পর্য়ায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মটর সাইকেলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
এ ব্যাপারে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবার রহমান জানান, নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডার হয়েছে, বাহিরে কি হয়েছে তা তিনি কিছুই জানেন না। এ বিষয়ে তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।