কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি: মাথার উঁকুন বেছে এবং পা মালিশ না করায় জালিকা বানু নামের এক ছাত্রীকে বেত দিয়ে পিটিয়ে ডান হাতের কবজি মচকে দিয়েছে শিক্ষিকা। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা কেশবা বেসরকারী (সদ্য সরকারী) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিশুটিকে কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই স্কুলের ৩য় শ্রেনীর ছাত্রী জালিকা বানু জানায়, গত শনিবার সকালে সে স্কুলে আসার পর সহকারী শিক্ষিকা তহমিনা বেগম তাঁর মাথার উঁকুন বাছতে নির্দেশ দেয়। উঁকুন দেখার ফাঁকে ক্লাস রুমে পা মালিশ করতে বললে জালিকা এ কাজে আপত্তি জানায়। তখন হৃদয়হীনা ওই শিক্ষিকা বেত দিয়ে নির্মম ভাবে ছাত্রীটিকে পেটায় । জালিকা হাত এগিয়ে দিলে তার ডান হাতের কবজিতে আঘাত লেগে মচকে যায়। শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে গিয়ে তার বাবা মাকে জানায়। বাবা যাদু মিয়া প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাককে সাথে নিয়ে শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে আসে। নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান শিশুটিকে দেখার পর হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। ওই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র নুর হক ও গোবিন্দ্রনাথ রায় বলে স্যার জালিকা আপুকে আপা খুব মেরেছে। ক্লাসে পড়া না হলে আমাদেরকেও মারে ওই আপার খুব রাগ আমরা আর স্কুলে আসব না। এব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষিকা তহমিনা বেগম শিশুটিকে পেটানোর কথা অস্বীকার করে বলেন, সে গোল্লাছুট খেলতে গিয়ে পড়ে যায়। এসময় তার হাত মচকে যায়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবেদ আলীর সাথে কথা হলে তিনি ছাত্রীকে পেটানোর কথা স্বীকার করেন এবং বলেন ওই বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক শিক্ষিকার মধ্যে তহমিনার দেবর প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ফেরদৌসী রহমান সহকারী শিক্ষিকা। একই পরিবারে ৩জন শিক্ষক শিক্ষিকা থাকায় বিদ্যালয়টিকে তারা রামের রাজত্ব হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রধান শিক্ষক সাকোয়াত হোসেন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি । উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম ঘটনার কথা স্বীকার করে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায়।