সিসি ডেস্ক: চট্টগ্রামে মা-মেয়ে খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন ‘উত্ত্যক্তকারী’ আবু রায়হানসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার ভোররাতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকার মালিবাগ থেকে ‘উত্ত্যক্তকারী’ আবু রায়হানকে (২৪) ও চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকা থেকে শহীদকে (২৬) গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. বাবুল আক্তার জানান, আবু রায়হান মামলার এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামি। শহীদ রায়হানের সহযোগী। তিনি একটি রেস্ট হাউসের গাড়িচালক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গত সোমবার নগরের সিডিএ আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কের যমুনা ভবনের চারতলায় ভাড়া বাসায় সায়মা নাজনীন নিশাত (১৮) ও তাঁর মা রিজিয়া খাতুন (৫০) খুন হন। সায়মা আগ্রাবাদ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ওই রাতেই সায়মার বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন। মামলায় আবু রায়হানের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়।
বাবুল আক্তার গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সায়মার বাবা রেজাউল করিম ও ভাই সাইফ রেজা বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর রায়হান ও শহীদ বাসায় ঢোকেন। এ সময় মা-মেয়ে চিৎকার করলে সাময়ার মুখ চেপে ধরেন রায়হান ও রিজিয়া খাতুনের মুখ চেপে ধরেন শহীদ। একপর্যায়ে তাঁরা ছুরি দিয়ে মা-মেয়েকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। শেষে রায়হান সায়মার পায়ের রগ কেটে দেন। রক্তে রায়হান ও শহীদের জামাকাপড় ভিজে গেলে তাঁরা জামাকাপড় খুলে সাইফ রেজার লুঙ্গি পরে বেরিয়ে যান। বিয়ের প্রস্তাবে সায়মা রাজি না হওয়ায় তাঁকে রায়হান হত্যা করেছেন বলে পুলিশকে জানান।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসির বিবিএ’র ছাত্র আবু রায়হান (২৬) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কর্মরত হাবিলদার আবুল বাশারের ছেলে। তাদের বাসা নগরীর শান্তিবাগ এলাকায়। আর শহীদের বাড়ি সন্দ্বীপ, বাবার নাম মো. বাবুল। তিনি যে রেস্টহাউজের গাড়ি চালান, সেখানে রায়হানের নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে অতিরিক্ত উপ কমিশনার বাবুল আক্তার জানান।