রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আব্দুল হান্নানকে শিবির সন্দেহে ব্যাপক মারধর করেছে ছাত্রলীগ। হান্নানের দুই পা ভেঙে দেয়া হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের ২৪০ নম্বর কক্ষে নিয়ে উচ্চ শব্দে গান বাঁজিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে ওই শিক্ষার্থীর দুই পা ভেঙ্গে যায়। পরে মতিহার থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।
হল সূত্রে জানা গেছে, মাদার বখশ হলের ২৫৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন আব্দুল হান্নান। শুক্রবার সকালে তাকে ২৪০ নম্বর কক্ষে ডেকে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য ও লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল বাকি।
কক্ষে নিয়ে হান্নানকে শিবির আখ্যা দিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই লোহার রড ও লাঠি দিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে মারা হয়। মারধরকারীরা ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিন গ্রুপের। হান্নানের চিৎকার যাতে বাইরে না যায় সে জন্য কম্পিউটারে উচ্চ শব্দে গান বাঁজানো হয়। পরে প্রভোস্টের নেতৃত্বে মতিহার থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে তৌহিদ আল তুহিন বলেন, হলে আমার ছেলেরা এক শিক্ষার্থীকে শিবির সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে মারধরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মিজানুর রহামান রানা বলেন, আমি বিষয়টি শুনিনি। যদি কোনো শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় তাহলে এটা দুঃখজনক।
মতিহান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম রেজাউল ইসলাম বলেন, হলে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের কথা জানতে পেরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।