সিসি নিউজ: সিঙ্গাপুরের গ্লেন ঈগল হসপিটালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা সংসদ সদস্য সাবেক সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনকে নিয়ে চলছে নোংরা রাজনীতি। ২২ মার্চ রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মোট ৩ বার পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয় তার মৃত্যুর খবর। এছাড়া অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই হিরন অনুসারীদের নানাভাবে গালাগালি আর বরিশাল ছাড়া করার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বরিশালে শুক্রবার হিরনের রোগমুক্তি কামনায় মসজিদে মসজিদে দোয়া মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে হয়েছে বিশেষ প্রার্থনা। মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে দোয়া হয় মারকাস মসজিদ ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে। জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিশেষ মোনাজাত হয় সোহেল চত্বরের দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে।
গত ২২ মার্চ রাতে আকস্মিক হৃদক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান হিরন। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের কারণে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। শংকাজনক অবস্থায় ওই রাতেই ঢাকায় অ্যাপোলো হসপিটালে ভর্তি করা হয় তাকে। তার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ২৪ মার্চ রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গ্লেন ঈগল হসপিটালে ভর্তি করা হয় তাকে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন হিরন।
শুক্রবার দুপুরে মাথায় সিটি স্ক্যান শেষে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা প্রফেসর ডা. টিমোথি লি বলেন, ‘শরীরের সবগুলো অর্গান স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। শুরুতে অনিয়ন্ত্রিত থাকা ডায়াবেটিকস এবং ব্লাড প্রেসার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। আমরা তার ব্যাপারে আশাবাদী।’
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, ‘এ ধরনের রোগীদের সেরে উঠতে বেশ সময় লাগে। কখনও কখনও তা কয়েক মাস হতে পারে।’
চিকিৎসাধীন হিরনের যখন এই পরিস্থিতি ঠিক সেই মুহূর্তে এখানে আওয়ামী লীগের একটি অংশের বিরুদ্ধে উঠেছে ভিন্ন পথে হাঁটার অভিযোগ। হিরন না ফিরলে কিভাবে বরিশালের দখল নেয়া হবে সেই ছক পর্যন্ত আটছেন তারা। এসবের প্রভাব এখন অনেকটাই প্রকাশ্য আওয়ামী রাজনীতিতে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘২২ মার্চ রাত সাড়ে ৯টায় অসুস্থ হয়ে শেবাচিম হাসপাতালে যান হিরন। ঢাকায় পাঠানোর আগ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা সেখানে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ে হাসপাতালে জনতার ঢল নামা ছাড়াও তাকে দেখতে যান আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতারা। অথচ ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে আগৈলঝাড়া উপজেলার শেরালে নিজ বাড়িতে থাকা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ তাকে দেখতে যাননি। ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকা ২ দিনেও তাকে দেখতে যাননি হাসানাত। অবশ্য হিরন অসুস্থ হওয়ার ৭ দিন পর শুক্রবার জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত দোয়া মোনাজাতে উপস্থিত থাকেন তিনি।’
বিপক্ষের লোকজন জীবিত হিরনকে মৃত বলে প্রচার করছে। হিরন অসুস্থ হওয়ার পর ২২ মার্চ শনিবার রাতে প্রথম ছড়িয়ে দেয়া হয় তিনি মারা গেছেন। পরে ২৩ মার্চ দুপুরে পুনরায় ছড়িয়ে দেয়া হয় একই খবর।
উৎসঃ যুগান্তর