• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে চাঁদা দাবি

BFঢাকা: স্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে আপলোড করে তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছেন শরীফুর রহমান নামের এক যুবক। লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খুলতে না পারা ভুক্তভোগী ওই তরুণী প্রতিকারের আশায় নিয়েছে আইনের আশ্রয়। শরীফকে অভিযুক্ত করে গত বুধবার ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন (২০০২)’-এর ধারায় মামলা করেছে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায়। ওইদিনই শরীফকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। প্রতারক স্বামী শরীফ এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। জানা গেছে শরীফের নির্মম লালসা ও প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগী তরুণী যাত্রাবাড়ীতে তার বাসায় একপ্রকার বন্দি জীবনযাপন করছেন। শেরেবাংলানগর থানা সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর একটি বেসরকারি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শরীফুর রহমান (২৪)। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার দক্ষিণ বারগাঁও গ্রামে। ঢাকায় বাস করে ৪৮ শুক্রাবাদে। তার সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে দুই বছর আগে ভালাবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ‘ল’ আদ্যক্ষরের এক শিক্ষার্থী (২২)। শরীফকে বিশ্বাস করে মনপ্রাণ উজাড় করে দেয় ওই তরুণী। ২০১৩ সালের ৭ই জুলাই দুই পরিবারকে না জানিয়ে ঢাকার একটি কাজী অফিসে বিয়ে করেন তারা। দুই পরিবারের অগোচরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে শরীফ ও ওই তরুণী একত্রে থাকতেন। ৪৮ শুক্রাবাদসহ নানা জায়গায় নিয়মিত তারা রাত কাটাতেন। তাদের বিশেষ মুহূর্তের ছবি কৌশলে ভিডিওতে ধারণ করে শরীফ। বিয়ের মাত্র কিছুদিনের মধ্যে তাদের মেলামেশা ও বিয়ের বিষয়টি দুই পরিবার জেনে যায়। তরুণীর পরিবার শরীফকে মানতে অস্বীকার করে। এ কারণে শরীফের জিঘাংসা বেড়ে যায়। ভিডিওচিত্র সহ বিভিন্ন কারণে বিয়ের কিছুদিন পরেই শরীফের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে তরুণীর। জানতে পারে শরীফের সঙ্গে আরও অনেক মেয়ের যোগাযোগ ও সম্পর্ক রয়েছে। এতেই প্রতারক শরীফের আসল চেহারা প্রকাশ পেতে থাকে। নিজের চরম ভুল বুঝতে পারেন এ তরুণী। সৃষ্টি হয় মনোমালিন্যের। দুজনের মাঝে তৈরি হয় দূরত্ব। শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। কিন্তু শরীফ নাছোড়বান্দা। টাকার নেশা ও লোভ পেয়ে বসে তাকে। খুঁজতে থাকে গোপন কৌশলের। পেয়েও যায় তা। স্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ মুহূর্তের ছবিগুলো ফেসবুকে আপলোড করে শরীফ। ১০ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় তরুণীর পরিবারকে। বাধ্য হয়ে তরুণী মামলা করেন শেরেবাংলানগর থানায়। ভুক্তভোগী তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, সরল বিশ্বাসে শরীফের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শরীফ তার এই সরলতার সুযোগ নিয়েছে। টাকার লোভে সে এমন জঘন্য কাজ করেছে। শেরেবাংলানগর থানা সূত্রে জানা গেছে, একই অপরাধে ২০১৩ সালের অক্টোবরে শরীফের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন কারাবাস করেছিল শরীফ। এই থানার উপপরিদর্শক ও আগের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজু আহমেদ মানবজমিনকে জানান, শরীফের নামে ২০১৩ সালের ৫ই অক্টোবর ২০০২ সালের পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন’ এর ৮-এর (১) ও (২) ধারায় আরও একটি মামলা হয়েছিল। স্ত্রী পরিচয় দেয়া ওই নারী নিজেই এই মামলা করেন। দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন কারাগারে ছিল শরীফ। পরে জামিনে বেরিয়ে আসে। তদন্তে পাওয়া তাদের বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও চিত্র সিজ করে আদালতে জমা দেয়া হয়েছিল। মামলা দায়েরের দুই মাস পরে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। কিন্তু ওই তরুণী ও যৌতুকের ১০ লাখ টাকা পাওয়ার নেশায় আবারও প্রতারণার আশ্রয় নেয় শরীফ। তার ফেসবুকে আরও ছবি আছে বলে মেয়েটি ও তার পরিবারকে জানায়। হুমকি দেয় টাকা না দিলে এসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন বাধ্য হয়ে মেয়েটি শেরেবাংলানগর থানায় গত ২রা মার্চ মামলা করেন (মামলা নম্বর-০২)। তিনি বলেন, মামলার পর ডিবি পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। শরীফের কাছে আরও ভিডিওচিত্র আছে কি না বা সে কোন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরই মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম অভিযুক্ত শরীফকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। বৃহস্পতিবার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের একটি আদালতে শরীফের ৩ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। অপরদিকে শরীফের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। আদালত রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আগামীকাল রোববার একই আদালতে এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসি মাহমুদা আক্তার লাকী বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে শরীফের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যতদূর জানতে পেরেছি মেয়েটির অসচেতনতার সুযোগে আসামি এমন কাজ করেছে।
উৎসঃ   মানবজমিন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ