• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সৈয়দপুরে পাট প্রেস বন্ধ থাকায় কর্মহীন আড়াই হাজার শ্রমিক

Juteবিশেষ প্রতিনিধি: রপ্তানি বাণিজ্য না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ৫টি পাট প্রেস। ফলে প্রেসে বাইন্ডিংয়ে কর্মরত প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
শনিবার শহরের তুলসীরাম সড়কস্থ পাট প্রেস এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকের কোলাহলে মুখরিত কারখানাগুলোতে পিনপতন নিরবতা। ১০ একর জমিতে গড়ে উঠা প্রেস এলাকাটিও যেন শুধু শূন্যতা বিরাজ করছে। তালা ঝুলছে এলআর এন্টারপ্রাইজ, ব্রাইট ফাইবার অফিস কক্ষে। একই চিত্র বিসিক শিল্পনগরী গোল্ডেন ফাইবার এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জুলু জুট ট্রেডিং কোম্পানির প্রেসগুলোতে।
পাট প্রেসের সূত্র মতে, উত্তরবঙ্গের বৃহৎ রপ্তানিকারী সৈয়দপুরের পাটপ্রেসগুলো হতে প্রতি বছর আড়াই থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার পাট রপ্তানি হতো বহির্বিশ্বে। এর মধ্যে সিংহভাগ পাট যেতো ভারতে। পাশাপাশি পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, জার্মানিতে সামান্য রপ্তানি হতো। তবে রপ্তানিকারকদের বরাবরই পছন্দ ছিল ভারত।
রপ্তানিকারকরা জানান, এ পাট বেনাপোল হয়ে কিংবা হাতিবান্ধা হয়ে ভারত প্রবেশের পূর্বেই নগদ টাকা পাওয়া যেত। আর অন্যান্য দেশে পানিপথে রপ্তানি করতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর দেরিতে টাকা পাওয়া যায়। তাই ভারতে পাট রপ্তানিই লাভজনক। সূত্রটি জানায়, এদিকে অদৃশ্যকারণে ভারত গত এক মাস ধরে সৈয়দপুরের পাট আমদানি না করায় বন্ধ হয়ে যায় এখানকার সবকটি পাট প্রেস। আর কর্মহীন হয়ে পড়ে কর্মরত প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক।
পাটপ্রেসের শ্রমিক নেতা মোখলেছুর রহমান জানান, এসব প্রেসে শ্রমিকদের ওপর ৮ হাজার লোকের জীবন জীবিকা নির্ভর করে। এখন কাজ নেই। প্রতিদিন শ্রমিকরা এখানে আসছে কাজের সন্ধানে। তবে কাজ পাব কোথায়? জানি না কত দিন এ অবস্থা চলবে? তবে অন্তত শ্রমিকের স্বার্থে প্রেসগুলো যাতে চালু হয় সে বিষয়ে নজর দেয়া উচিত সরকারের। একই দাবি করেন স্থানীয় বামদল নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মাহবুব আলম।
জুলু জুট ট্রেডিং কোম্পানির ম্যানেজার মো. ইসহাক জানান, গত এক বছর ধরে আমাদের ব্যবসা বন্ধ। ব্যাংক ঋণে কেনা প্রায় ১০ কোটি টাকার পাট অবিক্রিত অবস্থায় থাকায় দুশ্চিন্তায় আছি। তার ওপর ভারতে রপ্তানি না হওয়ায় হয়ত পুরোটাই লোকসানের ঘানি টানতে হবে। এভাবে দেউলিয়া হওয়ার আশংকায় স্থানীয় সকল পাট রপ্তানিকারকরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।
পপুলার জুট এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রাশেদ জানান, স্থানীয় পাটকলগুলোতে সরবরাহ করে এ ব্যবসা টিকে রাখা যায় না। তাই ভারতে রপ্তানি প্রক্রিয়া চালু হলে আমারসহ সকল প্রেসই চালু হবে। এতে কৃষকসহ পাট সংশ্লিষ্ট সকল পেশাজীবীরাই বাঁচবে। না হলে এদেশ থেকে বিলুপ্তি হয়ে যাবে সোনালী আঁশ খ্যাত অর্থকরী এ ফসলটি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ