সিএসএম তপন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী): নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সয়রাবান্ধায় চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী হত্যায় গত চার মাসেও কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে মামলার বাদীকে আসামীরা অব্যাহত ভাবে হুমকি প্রদান করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ ও মামলার বিবরনে জানা গেছে, গত ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে চুমকি রানী নিখোঁজ হয়। চুমকি রানীর মা ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরী করেন। নিখোঁজের দুদিন্ পর প্রতিবেশী দিবেন্দ্র নাথের পুত্র মিথুন সরকারের মরিচ ক্ষেতের মধ্যে মাটির নিচে দুই পায়ের আঙ্গুল বের করা মাটি চাপা অবস্থায় দেখতে পেয়ে এলাকবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর লাশটি মা সন্ধ্যা রানীর নিকট হস্থান্তর করে। সন্ধ্যা রানী বাদী হয়ে দিবেন্দ্র নাথের পুত্র মিথুন (৩৫),প্রভাষ চন্দ্র রায় (৩৮), দিনেশ চন্দ্র রায় (৪৫) ও নিবারন চন্দ্র (৫০) কে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।বাদীর অভিযোগ মামলা করার পর থেকে আসামীরা বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। বাদী মামলা পরিচালনা করলে তার মেয়ের মত তাকেও মেরে ফেলে লাশ গুম করা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছে। এধরনের অভিযোগ বাদী মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই এরশাদকে জানালে তিনি অভিযোগ আমলে না নিয়ে মামলার পিছনে ছুটতে নিষেধ করেন। বাদী সন্ধ্যা রানী বলেন, আসামীরা দোদন্ড প্রতাপে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। আসামীরা দিনের আলোয় সরাসরি থানায় এসে মামলার তদবির করছেন। বাদী আরো বলেন, আমার মেয়ে হত্যার ব্যাপারে মামলািিট আমার নিজস্ব লোক দিয়ে লিখেতে চাইলে দারগা এরশাদ আলী তা লিখতে না দিয়ে তিনি নিজেই মামলার এজাহার লিখে আসামীর নিজ চাচাতো ভাই আপন চন্দ্রকে সাক্ষী করেন। গত ৩ এপ্রিল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বাদী সন্ধ্যা রানী গালে হাত দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল আকাশের দিকে কি যেন দেখছেন। সন্ধ্যা রানীকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বললে তিনি অঝোর নয়নে দু চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন, আমার ছোট মেয়েটির কি অপরাধ ছিল ? তোমরা আমার ছোট সোনােেক এনে দাও। গ্রামের মান্যবর ব্যক্তি বাবু প্রষন্ন কুমার রায় বলেন, মেয়েটি খুব শান্ত প্রকৃতির ছিল। তার ব্যবহারে অনেকে মুগ্ধ হয়েছিল। এই ছোট মেয়েটির কোন শত্রু থাকতে পারে না। কোন পাষন্ডরা এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়েছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবু বিল্পব কুমার রায় (দিপু) র সাথে কথা হলে তিনি জানান হত্যা কান্ডের আসামী ৪ মাসেও গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভুমিকা রহস্যজনক মনে হচ্ছে। আমি পুলিশকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামীদের তড়িৎ গতিতে গ্রেফতারের আহ্ববান করছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস, আই এরশাদের সাথে কথা বললে তিনি বাদীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আসামীরা সবাই পালাতক, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ওসি (তদন্ত) সোলায়মান আলী বলেন মামলাটি অধিকতর তদন্তের কারণে ও মযনাতদন্তের রিপোর্ট না আসায় চার্জশীট করতে বিলম্ব হচ্ছে।