• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বেসিক ব্যাংকের কাছে অসহায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক !

Bank Basik
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক: একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতি আর ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিশেষায়িত রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে কয়েকটি চক্রের বিরুদ্ধে।বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকটি পরিদর্শন প্রতিবেদনে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণে অনিয়ম ধরা পড়েছে।এর সঙ্গে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান, এমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তার পরও কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা মানছে না বেসিক ব্যাংক।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় যেকোনো ব্যাংকের এমডিকে অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। সেই ক্ষমতা বলে সোনালী ব্যাংকে অনিয়মের ঘটনায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করা হলেও বেসিক ব্যাংকের বেলায় সে পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।উচ্চ মহলের চাপে এখন নজরদারিতে রেখেই দায় এড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশেষায়িত বেসিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হলেও গত কয়েক বছর ধরে অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে দেখা যাচ্ছে এসব অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে যখন এসব অনিয়ম ধরা পরে তখন যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্যকর ব্যবস্থা নিত তাহলে এখন নতুন নতুন অনিয়ম হত না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকটি পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে বেসিক ব্যাংকের শুধু গুলশান শাখাই দেড় হাজার কোটি টাকা অনিয়ম রয়েছে।
এছাড়াও সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এক পরিদর্শন চালিয়ে বৈদেশিক লেনদেনে ব্যাপক অনিয়ম উদ্ঘাটন করেছে। এতে ব্যাংকের গুলশান শাখায় প্রায় ১০ লাখ ডলার বা ৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার রফতানিমূল্য দীর্ঘদিন ধরে অফেরত অবস্থায় রয়েছে। রফতানিমূল্য অপ্রত্যাবাসিত থাকলেও শাখা সুকৌশলে প্রধান কার্যালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকে কোনো তথ্য জানায়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ অর্থ বিদেশে পাচারের আশঙ্কা করছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খেলাপিযোগ্য আরো ৬৬৩ কোটি টাকা ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে, যা ৩১ মার্চ ’১৪ ভিত্তিক প্রতিবেদনে খেলাপি হিসেবে দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ভুয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৩৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জনৈক জুয়েল নামের এক ব্যক্তি। ভুয়া ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।
এতো অনিয়মের পরও ব্যাংকটির বিরুদ্ধে তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্তহীনতায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফলে অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ব্যাংকটির পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। হতাশ হয়ে পড়ছেন একসময় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত ব্যাংকটির কর্মীরাও।
এদিকে তিনটি শাখা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা অনিয়ম ধরার পর গত জুলাইতে বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সমঝোতাপত্রে নয়টি শর্ত পরিপালনের কথা উল্লেখ থাকলেও এর সাতটিই অর্জন করতে পারেনি বেসিক ব্যাংক। ডিসেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৬৩ শতাংশের মধ্যে রাখার শর্ত থাকলেও ৬ ফেব্রুয়ারি শেষে তা হয়েছে ২৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) ১১ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতিও বেড়ে হয়েছে ৬৪৭ কোটি টাকা। নন-পারফরমিং ঋণের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকে এখনো তা ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
বেসিক ব্যাংকের অনিয়মের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মু. মাহফুজুর রহমান প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তাদের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)সই হয়েছে। এছাড়াও ব্যাংটির ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারী রয়েছে।
তবে এবিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রাইমনিউজ.কম.বিডিবে বলেন, দেশের ব্যাংকগুলো যখন বিনিয়োগ করতে পারছে না তখন বেসিক ব্যাংক একের পর এক অনিয়ম করে বিনিয়োগ করছে। তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে পরিমাণ অনিয়ম ধরেছে তার বেশিভাগই পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে হয়েছে। এ অনিয়মের যদি পাঁচ শতাংশ ব্যবস্থা নিতে পারতো তাহলে পরবর্তীতে তারা অনিয়মের সাহস পেত না।
তিনি বলেন, ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে সরকারের উচু মহলের সম্পর্ক রয়েছে বিধায় আইন থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।এ কারণে বরাবরই তারা অনিয়ম করার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।
এ বিষয়ে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
উল্লেখ্য, অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই সমঝোতা স্মারক সই করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেসিক ব্যাংকের পক্ষে এতে সই করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও এমডি কাজী ফখরুল ইসলাম। এরপর ব্যাংকটির কার্যক্রম নজরে রাখতে গত ২৭ নভেম্বর একজন মহাব্যবস্থাপককে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

উৎসঃ   প্রাইম নিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ