• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

পানির হিস্যা আদায়ে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে

IMG_2327হাসান মাহমুদ ও সোহানা শাহী, তিস্তা ব্যারেজ থেকে: তিস্তাসহ অভিন্ন সব নদীর পানির হিস্যা আদায়ে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। এ আন্দোলন আরও বেগবান করতে আগামী ১৬ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মূসূচি এবং মে মাসের যেকোনো দিন (পরে তারিখ ঠিক করবে)ঢাকায় জাতীয় কনভেনশন করার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

 তিন দিনব্যাপী তিস্তা ব্যারেজ  অভিমুখে রোডমার্চের বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন লালমনিরহাটের দোয়ারী বাজারে সমাপনী সমাবেশে বাম মোর্চার সমন্বয়কারী অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

 অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার বলেন, তিস্তায় পানি নেই দায় ভারত সরকারের। অন্যদিকে বাংলাদেশের সরকার তিস্তার পানি নিয়ে কোনো দরকষাকষি করেনি। ৪২ বছরে ঘুরে ফিরে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা সবাই তোষণ নীতি করেছে। তারা শুধু পারে বাংলাদেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে।

তিস্তার পানি সমবন্টনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নদীর ৩৫ ভাগ পানি রেখে সমঅংশদারিত্বের ভিত্তিত্বে উভয় দেশের মধ্যে ভাগাভাগি করতে হবে। শুকনো মওসুমে তিস্তার মূল মুখে ন্যূনতম ৮ হাজার কিউসেক পানি তিস্তা ব্যারেজের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে উজানের নদীর গতিপ্রবাহ রোধকারী সব স্থাপনা অপসারণ ও প্রকল্পসমূহ সরিয়ে নিতে হবে।

অন্যদিকে অবিলম্বে বাংলোদেশ সরকারকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নদী সংক্রান্ত কনভেনশনে স্বক্ষর করার দাবি জানান তিনি।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, হাসিনা ভারতের কাছে দাসখত দিয়েছে। আমরা কারও কাছে দাসখত দেই নাই। ভারত গত ৫ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচনে অধিষ্ঠিত সরকারকে সমর্থন দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই শতাব্দীতে পানির জন্য একটি যুদ্ধ হবে। বাংলাদেশের মানুষকেও আরও একটি যুদ্ধ করতে হবে। আর তা হলো পানির হিস্যা আদায়ের যুদ্ধ।

তিনি বলেন, প্রমত্তা তিস্তা এখন ধূ ধূ বালুচর। কৃষকের মুখ ফেটে চৌচির। তিস্তার পানির অধিকার আদায়ে আন্দোলন জোরদার করার কথা বলেন তিনি।

গনসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, স্বাধীনতাত্তর সময়ে ভারত বাংলাদেশের উপর আগ্রাসী চালিয়েছে কিন্তু দেশের কোনো সরকারই এর প্রতিবাদ করেনি। ভারত যখন যা চায় বাংলাদেশ তা দিচ্ছে,বিনিময়ে আমরা কিছুই পাচ্ছি না। সমুদ্রে গ্যাস ব্লক, সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারতকে দেওয়া হয়েছে।সীমান্তে প্রতিনিয়ত বিএসএফ গুলি করে মানুষ মারছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার এর দায় নিচ্ছে না। তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা থেকে আমাদের বঞ্চিত করছে।

তিনি বলেন, গদি রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত যা চাইছে তাই দিচ্ছে। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি ভারতের ক্ষমতায় যাবে বলে বিএনপি-জামায়াত তাকে সমর্থন দিচ্ছে।

 জোনায়েদ সাকি বলেন, শুধু তিস্তার পানির জন্য আমাদের লড়াই নয়। বাংলাদেশের শাসক দালালদের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই। তাদের উৎখাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

 গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, ভারত বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব করায়ত্ব করতে চায়। পানির হিস্যা না দিয়ে আ্মাদের না খেয়ে মারতে চায়। আমরা তা হতে দেব না।

 সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সকাল পৌনে ১০টায় রংপুর থেকে রোডমার্চের গাড়িবহর তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে রওয়ানা দেয়। পথে রংপুরের পাগলাপীর ও নীলফামারীর জলঢাকায় সমাবেশ করে করে বিকেল পৌনে ৫টায় তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পৌছে।

গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে যাত্রা শুরু করে রোডমার্চের গাড়িবহর। প্রথম দিন বগুড়া এবং দ্বিতীয় দিন রংপুরে রাত্রীযাপন করে বাম মোর্চার নেতাকর্মীরা। পথে বিভিন্নস্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ