• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

কাল ফুলবাড়ী আঁখিরা গণহত্যা দিবস

Dinajpurফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: কাল ১৭ এপ্রিল দিনাজপুরের ফুলবাড়ী আঁখিরা গণ হত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বারাইহাটের ১০০ গজ দূরে আঁখিরা নামক স্থানের একটি পুকুরপাড়ে বর্বর খান সেনারা নির্বিচারে হত্যা করে ৫শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুদের। প্রাণের ভয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে যাওয়ার সময় উক্ত স্থানে তারা খান সেনাদের হাতে ধরা পড়ে। ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলার প্রায় ৫শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু দলবদ্ধভাবে ভারতে যাওয়ার খান সেনাদের দোসর রাজাকারদের সহায়তায় খান সেনারা পুরো দলটিকে আটক করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে পাখির মত গুলি করে হত্যা করে। আজও অনেকে এই ঘটনার বেদনাবিধুর স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও আজও সংরণ করা হয়নি ঐতিহাসিক এ বদ্ধ ভূমিটি।
মুক্তিযোদ্ধা ও প্রত্যদর্শীদের নিকট জানা গেছে, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ পেতে ফুলবাড়ী উপজেলার রামভদ্রপুর, নবাবগঞ্জ উপজেলার খোশলামপুর ও পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বাধদিঘী গ্রামের ৫শতাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশুদের একটি দল ভারতে আশ্রয় নেয়ার জন্য এ পথে যাচ্ছিল। রামভদ্রপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার তাদেরকে ভারতে পৌছে দেয়ার কথা বলে তাদের নিকট থেকে সোনা-দানা ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে। ৫ শতাধিক মানুষের এই দলটি শিবনগর ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের মধ্য দিয়ে সমশেরনগর গ্রাম হয়ে বারাইহাট পার হয়ে আঁখিরা পুকুরপাড়ে পৌছা মাত্র কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার ও তার সঙ্গীরা এই নিরীহ মানুষদেরকে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা এই ৫ শতাধিক মানুষকে এক লাইনে দাঁড় করে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। ভাগ্যের জোরে বেঁচে যাওয়া ওই দলের সহযাত্রী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা রাখাল চন্দ্র (৬১) জানান, কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকারের কথায় বিশ্বাস করে যাত্রা শুরু করেছিল ৩ উপজেলার প্রায় ৫শতাধিক মানুষ। কিন্তু তাদের বিশ্বাস এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে তারা বিন্দুমাত্র বুঝতে পারেনি। ফুলবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী বলেন, ফুলবাড়ীর যে কয়জন ঘৃনিত কু-কর্মের অধিকারী রাজাকার ছিল তাদের মধ্যে কেনান সরকার অন্যতম। সে শুধু ওই ৫শতাধিক ব্যক্তির প্রাণই নেয়নি তার হাতে নিহত হয়েছে ফুলবাড়ীসহ কয়েকটি উপজেলার কয়েক হাজার নিরীহ মানুষ। এ জন্য যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তার মৃত্যু হয়েছে। তার অনেক সঙ্গী এখন ফুলবাড়ী থেকে বিতাড়িত। তিনি আজও এই ঐতিহাসিক বদ্ধ ভূমিটি সরকারি উদ্যোগে সংরণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, বিভন্ন দপ্তর থেকে কয়েক দফায় এই আঁখিরা নামক জায়গাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন এই ঐতিহাসিক আঁখিরা নামক জায়গাটি সংরণ না হওয়ায় ওই এলাকার কৃষকেরা চাষাবাদ করে তা বিলীন করে দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ