সারোয়ার আলম সুমন, বদরগঞ্জ (রংপুর): স্বাধীনতার ৪২ বছর পর রংপুরের বদরগঞ্জে একাত্তরের সেই কালের সাী সহস্রাধিক তাজা প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত ঝাড়ুয়ারবিল বধ্যভুমিতে স্বাধীনতার স্মৃতি স্তম্ভের উদ্বোধন করা হয়েছে। বদরগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দুরে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের ঝাড়ুয়ারবিল বধ্যভুমি ও পদ্মপুকুর এলাকায় স্মৃতি স্তম্ভটি নির্মিত হয়। আজ বৃহস্পতিবার স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন রংপুর-২ আসনের এমপি আহসানুল হক চৌধূরী ডিউক। উদ্বোধন শেষে শহীদের স্মরনে বেদিতে পুষ্পমাল্য, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ও বদরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যাপক মেছের উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন, প্রধান অতিথি এমপি ডিউক চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী সুইট, জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদিকা লতিফা শওকত, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল হক চৌধুরী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মজিবর মাস্টার,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার মাহাবুবার রহমান হাবলু, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান চৌধুরী, জাসদ নেতা অধ্যাপক আনারুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। এছাড়াও এর অংশ হিসেবে পৌরশহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের স্মরনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য প্রতি বছর ১৭ এপ্রিল এলাকার মানুষ শুধু ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করেছে। এলাকার মানুষের প্রাণের দাবী ছিল সেখানে স্থায়ীভাবে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হোক। অবশেষে সেই প্রত্যাশা পুরণ হলো। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আশপাশের সহস্রাধিক মানুষকে জড়ো করে পাক হানাদার বাহিনী ঝাড়ূয়ার বিলে নির্বিচারে হত্যা চালায়। মানুষের তাজা রক্তে লাল হয়েছিল বিলের পানি। ওই ঘটনার প্রত্যদর্শী বদরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যাপক মেছের উদ্দিন বলেন, রংপুর আলবদর বাহিনীর কমান্ডার এটিএম আজহারুল ইসলামের নির্দেশে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাচ্চু খাঁ এবং কামরুজ্জামানের সহযোগিতায় বর্বর পাক হানাদারদের সঙ্গে নিয়ে ঝাড়ুয়ারবিল ও পদ্মপুকুরে গণহত্যা চালায়। তারা উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কিসমত ঘাটাবিলের কোনাপাড়া, মন্ডলপাড়া, গঁয়দাপাড়া, কুটিরপাড়া, খিয়ারপাড়া, খলিশা হাজীপুরের পাইকাড়পাড়া, তেলীপাড়া, বাজারপাড়া, বানিয়াপাড়া ও কামারপাড়ায় গণ হত্যা, লুন্ঠন ও ঘরে ঘরে অগ্নি সংযোগ করে। এ ছাড়াও রাজাকার আলবদর বাহিনী রামকৃষ্ণপুরের মাষাণডোবা, সরকারপাড়া, খিজিরেরপাড়া, মধ্যপাড়া, বালাপাড়া, বিত্তিপাড়া, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বুজরুক বাগবাড়, মন্ডলপাড়া, দোয়ানী হাজীপুর ও সর্দারপাড়াসহ অনেক বসতিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।