• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

রৌমারীতে বড়াইবাড়ি দিবস পালিত

04

আতাউর রহমান, রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) : নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ঐতিহাসিক বড়াই বাড়ী দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্পের সম্মুখে  শহীদদের স্ত্রী-পুত্র,এলাকার বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ, জন প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
সকাল ৮ টায় শহীদদের স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল সাড়ে ৮ টায় শোক র‌্যালী বের করা হয়। এতে সীমান্ত এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া করা হয়।
সকাল ১০ টায় স্মৃতি স্তম্ভে পাদদেশে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয়  ইউপি আব্দুর রাজ্জাক সভাপতিত্ব করেন। উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন, রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী, ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হাশেম, ভাইস চেয়ারম্যান আফসানা রাব্বী রিপা, ইউসুফ আলী মাস্টার, শহীদ বিজিবি ওয়াহিদের কন্যা পিংকি ও রিতু প্রমুখ। এ সময় আলোচনা সভায় শহীদ বিজিবি ওয়াহিদ এবং শহীদ বিজিবি আব্দুল কাদেরের স্ত্রী গন উপস্থিত ছিলেন । মাননীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন তাদেরকে ক্রেস্ট প্রদান করেন ।
বক্তারা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা, সীমান্ত এলাকার মানুষের জন্য নিরপত্তা জোরদার, রাস্তা ঘাটের উন্নয়নের ও শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে স্থায়ী ও উন্নত মানের সৌধ নিমানের্র জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য  ২০০১ সালের এই দিন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ অতর্কিত ভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে বড়াই বাড়ী বিওপিতে আক্রমণ করে। শুরু হয় বিএসএফ- বিডিআরের (বিজিবি) মধ্যে গুলি বিনিময়। বাংলাদেশ রাইফেলস্ এর ৩ জন যোয়ান শহীদ হন এবং আহত হয় ৬ জন। ভারতীয় বিএসএফ এ সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত ও ২ জন গ্রেপ্তার হয়। ঐ দিন ভারতীয় বিএসএফ বড়াই বাড়ী গ্রামে প্রবেশ করে ৭৯টি বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ করে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে।
দীর্ঘ ৪২ ঘন্টা গুলি পাল্টা গুলির পর ২০ এপ্রিল থেমে যায় যুদ্ধ। যুদ্ধে বিডিআরের লেঃ নায়েক ওয়াহিদ মিয়া, সিপাহী মাহফুজার রহমান ও সিপাহী আব্দুল কাদের শাহাদত বরণ করে। আহত হন ৬ জন। অপর দিকে ভারতের ১৬ জন বিএসএফ নিহত এবং ২ জন আত্মসর্মপন করে। পরে কামালপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ ও গ্রেপ্তারকৃতদের ফেরত দেওয়া হয়। ২১ এপ্রিল বড়াইবাড়ীতে ১০৬৭ নং পিলারের নিকট পতাকা বৈঠকের জন্য বিডিআর (বিজিবি)বিএসএফ কে চিঠি দেন। ফলে ২৪ এপ্রিল পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকেবাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল শায়রুজ্জামান জামালপুর। ফলে যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির ছায়া নেমে আসে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ