বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: বাড়ির ভেতরে হাঁস যাওয়ার ঘটনার জের ধরে রুনু বালা(৪০) নামে এক গৃহবধুকে পিটিয়ে তার স্পর্শকাতর অঙ্গে (গোপনাঙ্গ) মরিচের গুড়া ঢেলে দিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসীর তোপের মুখে ঘরে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে পাষন্ডরা। এ ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর মঠখোলাপাড়ায়।
মামলা সুত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার অতুল চন্দ্রের বাড়ির একটি হাঁস পার্শ্ববর্তী বিভুতি চন্দ্রের বাড়িতে যায়। এতে তারা বিরক্ত মনে করে হাঁসটি ধরে রাখে। ওই রাতে হাঁসের খোঁজ করতে রুনু বালা বিভুতির বাড়িতে যায়। এসময় বিভুতির স্ত্রী নিয় বালাসহ বাড়ির লোকজন রুনুকে গালিগালাজ করে মার ডাং করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ঘটনাটির পরের দিন রুনু বালা নাগরিক উদ্যোগ নামে একটি মানবাধিবার সংগঠনে বিচার চেয়ে আবেদন করলে নাগরিক উদ্যোগের মাধ্যমে দুই পক্ষকে সালিশ বৈঠকের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। এতে তারা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রুনু বালা পাশের মন্টু চন্দ্রের মুদির দোকানে তেল কিনতে গেলে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা বুদু চন্দ্র, বিভুতি চন্দ্র, নিয় বালা রুনুকে ধরে নিয়ে যায়। এসময় তারা বাড়িতে নিয়ে রুনুকে পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে তার স্পর্শকাতর স্থানে (গোপনাঙ্গে) মরিচের গুড়া ঢেলে দেওয়া হয়। তার আতœচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রুনু বালাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন। ওই রাতে প্রথমে বদরগঞ্জ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবনতি হলে রাতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার জের ধরে উত্তেজতি এলাকাবাসী বিভুতি চন্দ্রের বাড়ি ঘেরাও করে। আগেই এ পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বিভুতি তার বাড়ির লোকজন নিয়ে পালিয়ে যান।
বদরগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুর রহমান চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলে একদল পুলিশ পাঠানো হয়। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।