• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বরেণ্য সংগীত শিল্পী বশির আহমেদ আর নেই

Bosirঢাকা: সজনী গো ভালবেসে এত জ্বালা কেন বল না…, আমাকে পোড়াতে যদি এতো লাগে ভালো…’ এ রকম অসংখ্য গানের সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক বশির আহমেদ আর নেই। শনিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

বশির আহমেদের ছেলে রাজা বশির জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। কয়েকদিন ধরে তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটে। রাত দশটার দিকে তিনি মারা যান।

বশির আহমেদ-এর সংক্ষিপ্ত জীবন

বশির আহমেদ ১৯৪০ সালে কলকাতায় জন্ম গ্রহণ করেন। খুব ছোট থেকে মা’র কাছে ঘুম পাড়ানি গান শুনে শুনেই প্রথম গানে আগ্রহ তৈরি হয় তার। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ওস্তাদ বেলায়েত হোসেন এর কাছে গান শিখতে শুরু করেন।

গানে দক্ষতা অর্জনের জন্য তিনি বম্বেতে চলে যান। সেখানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর কাছে তালিম নেন এবং তার কাছ থেকে বশির আহমেদ প্রচুর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

তিনি ছিলেন একজন কবি এবং গীতিকারও। চিত্রনির্মাতা মোস্তাফিজ তার ‘সাগর’ ছবির গান লেখার জন্য বশির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানতে চান তিনি গান লিখতে পারবেন কি না। বশির আহমেদ সেই ছবির গানটি লিখেছিলেন এবং চমৎকারভাবে গেয়েছিলেন ‘জো দেখা প্যায়ার তেরা’। একইভাবে রবিন ঘোষও তার ছবির গান লেখার জন্য বশির আহমেদকে অনুরোধ করেন। ১৯৬৪ সালে ‘কারোয়ান’ ছবির জন্য বশির আহমেদ লিখেছিলেন এবং অসাধারণ গেয়েছিলেন ‘যব তোম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে’ গানটি। রেডিও পাকিস্তানে ষাটের দশকে সবচেয়ে বেশি বাজতো এই গানটি। সেই থেকেই ছায়াছবিতে তার গান লেখা শুরু হয়েছিল এবং নিয়মিত গাওয়া।

বশির আহমেদের গাওয়া ছবিগুলো- সাগর, কারোয়ান, ইন্ধন, কঙ্গন, দর্শন এবং মিলন। শবনম ও রহমান অভিনীত দর্শন ছবিতে বশির আহমেদ গেয়েছেন-চমৎকার একটি গান ‘তুমহারে লিয়ে ইস দিলমে যিতনি মোহাব্বত হ্যায়…’সুরকার ও গীতিকার বশির আহমেদ। দর্শন ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ১৯৬৭ সালে। অনেকেই জানেন না যে বাংলাদেশের এই বিখ্যাত গায়ক বাঙালি ছিলেন না, এমন কি তিনি বাংলা ভাষাও জানতেন না । তিনি ছিলেন কলকাতার সওদাগর পরিবারের সন্তান।তার পরিবার ছিল উর্দুভাষী।

১৯৬০ সালে তিনি কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। বশির আহমেদ ভারতের অধিবাসী হয়েও, বাংলাদেশে এসে তিনি তার গানের সুর ছড়িয়ে তার ভক্তদের মুগ্ধ করেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাদেশ) আহমেদ রুশদী বলে পরিচিত ছিলেন। আহমেদ রুশদী পাকিস্তানি চলচ্চিত্র জগতের বিখ্যাত গায়ক ছিলেন।

ঢাকায় আসার পর বশির আহমেদের ভগ্নিপতি ইসরাত কালভি তাকে সুরকার রবিন ঘোষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ইশরাত সাহেব তখন তালাশ ছবির জন্য গান লিখছিলেন। ওই ছবির আরও কিছু গান লিখেছিলেন সুরুর বারাবাঙ্কভি। গানগুলোর সুর দিয়েছিলেন রবিন ঘোষ। তিনি বশির আহমেদকে একটি সুযোগ দিয়েছিলেন নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। বশির আহমেদ তালাশ এর জন্য গান গেয়েছিলেন। তার মধ্যে খুব রোমান্টিক একটি গান- ‘কুছ আপনি ক্যাহিয়ে, কুছ মেরি সুনিয়ে…’ চমৎকার গেয়েছেন। তালাশ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৩ সালে। ১৯৬০ সালে সংগীত-সত্য সাহা ও সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ ছবিতে গেয়েছেন তার হিট করা গান-অথৈ জলে ডুবে যদি মানিক পাওয়া যায়। ১৯৬৯ সালে ময়নামতি ছবিতে ‘অনেক সাধের ময়না আমার’ এই আবেগী আর বিরহী গান দিয়ে মাত করেন বশির আহমেদ।

৬০ ও ৭০ দশকের জনপ্রিয় শিল্পী ও সুরকার বশির আহমেদ। ঢাকা আর লাহোরের ছবিতে প্রচুর প্লে ব্যাক করেছেন তিনি। তার স্ত্রী নেপালী কন্যা মীনা বশিরও একজন গুনী কণ্ঠশিল্পী। ‘ও গো প্রিয়তমা’ আর ‘তোমাকে তো না করেছি ফুলের তোড়া দিও না গো’ এই দুটি ডুয়েট গেয়েছেন বশির আহমেদ ও মীনা বশির। মীনার বোন মালা সিনহা ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী ছিলেন।

বশির আহমেদ এবং মীনা বশির বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি। তাদেরই সুযোগ্য সন্তান হিসেবে শুদ্ধ সঙ্গীত চর্চা করছেন মেয়ে হুমায়রা বশির এবং ছেলে রাজা বশির। ইতিমধ্যেই দুই ভাই-বোন মিলে শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় অ্যালবাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ