
সিসি নিউজ: সৈয়দপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আওতাধীন সকল বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে পরিচিত মুখ- মুকুল, বক্কর, আফজাল, হায়দার, জিয়াউল ও জালাল। ওরা এই কেন্দ্রের ফিডার ভিত্তিক বিল বিতরণ কাজের জন্য পিস রেটে মজুরী ভিত্তিক নিয়োগকৃত বিদ্যুৎ বিল বিতরণকারী। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে সামান্য মজুরীতে নিয়োগকৃত এসব বিল বিতরণকারী এখন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীপনযাপন করছে।
সূত্র মতে, বিদ্যুৎ উন্নয়ণ বোর্ড কর্তৃক বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সৃষ্টির শুরুতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল আদায় করতো স্পট বিলিং সিস্টেমের মাধ্যমে। পরবর্তীতে বিদ্যুতের গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্পট বিলিং সিস্টেম পদ্ধতিতে বিল আদায় কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। তাই ওই বছর বিদ্যুৎ উন্নয়ণ বোর্ডের ৮১১তম সাধারণ সভায় বহিরাগত পিস রেটে শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে মিটার রিডিং, বিল প্রনয়ণ, লেজার পোষ্টিং ও বিল বিতরনের কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই সভায় উপজেলা পর্যায়ে বিল বিতরণকারীদের প্রতি বিল বিতরণে ৭৫ পয়সা হারে ৫৯ দিনের জন্য শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি চাকুরীর মেয়াদ শেষে (৫৯ দিন পর) বিল প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে বোর্ডের ৯৫২তম সভায় প্রতি বিল বিতরণে ৭৫ পয়সার স্থলে ১ টাকা ২৫ পয়সা হারে প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। যা ২০০১ সালের নভেম্বর মাসের ২৬-২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত ৯৬৪তম সাধারণ সভায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
একটি সূত্র মতে, একজন বিল বিতরণকারী তার ৫৯ দিনের চাকুরীর মেয়াদকালে সর্বোচ্চ ১০ হাজার গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বিতরণ করে। যার পিস রেট দাঁড়ায় সাড়ে ১২ হাজার টাকা। ফলে প্রতি মাসে একজন বিল বিতরণকারীর মজুরী দাঁড়ায় ৬ হাজার ২শ’ ৫০ টাকা। দীর্ঘ ১৪ বছর পূর্বে নির্ধারিত ওই পিস রেট মজুরীর হার বর্তমানেও বহাল থাকায় বিল বিতরণকারী সহ অন্যান্য পিস রেটে নিয়োগকৃত শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
কথা হয়, বিল বিতরণকারী মহির উদ্দিন মুকুলের সাথে। তিনি ভারাক্রান্ত মনে জানান, বিদ্যুৎ বিল বিতরণ কাজের স্বার্থে পরিবার পরিজন নিয়ে সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালীপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে আছি। প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা বাসা বাড়া ও ৫শ’ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। মাসিক মজুরীর বাকী আড়াই হাজার টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব। তাই আমার মতো বিল বিতরণকারীদের দিন দিন বাড়ছে ঋণের বোঝা।
বিল বিতরণকারী আবু বক্কর জানান, মিটার পাঠকের ভুলের খেসারত দিতে হয় আমাদের। ইতিপূর্বে শহরের রংপুর রোডস্থ এক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অসামঞ্জস্য হওয়ায় তার হাতে লাঞ্চিত হয় আমাদের এক সহকর্মী। এছাড়া প্রচন্ড খরতাপ, বর্ষা-বাদল, তীব্র শীত উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে গ্রাহকের আঙ্গিণায় পৌছে দেই বিদ্যুৎ বিল।
সৈয়দপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র থেকে ১১ কেভি দারোয়ানী ও টাউন-২ ফিডারদ্বয়ের আওতায় বিদ্যুৎ গ্রাহকের বাসস্থানের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। বাই-সাইকেলে কিংবা পায়ে হেটে গ্রাহক দ্বারে বিদ্যুৎ বিল পৌছে দেয়ার কাজ করেন বিল বিতরণকারী জালাল ও হায়দার। তারা জানান, দারোয়ানী ফিডারের আওতাধীন নীলফামারী সদরের জয়চন্ডি, বাবুরহাট, নগর দারোয়ানী, কাজীরহাট, সুবর্ণখুলী এবং টাউন-২ ফিডারের আওতাধীন শ্বাষকান্দর, চাকলা বাজার, বোতলাগাড়ী, সোনাপুকুর এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের হাতে বিল পৌছাতে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাড়তি সময়ের জন্য কোন প্রকার বিল প্রদান করেন না।
একটি সূত্র মতে, দীর্ঘ দিন থেকে বিভিন্ন পদে পিস রেটে নিয়োগকৃত মজুররা সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হচ্ছে না তাদের স্থায়ী চাকুরীর ব্যবস্থা। অথচ বিল বিতরণকারীদের একনিষ্ঠ কর্মের ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের দেয়া টার্গেট অনুযায়ী সরবরাহ কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সিস্টেম লস রাখা, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পূরণ হয়।
এ ব্যাপারে জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুক্তিযোদ্ধা ইনছান আলী জানান, শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে পিস রেটে নিয়োগকৃত প্রবীণ মজুরদের মজুরী সম্প্রতি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং আগামী অর্থ বছরের বোর্ড সভায় তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হবে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ণ বোর্ড রংপুর বিতরণ জোনের প্রধান প্রকৌশলী এবিএম মিজানুর রহমান বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের বাইরে এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।