• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

লালমনিরহাটে দুই প্রকার প্রশ্ন দিয়ে এইচএসসি‘র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

Hatibandha Photo-1হাসান মাহমুদ, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় এবছর দুটি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও বুধবার সেই পরীক্ষা নেয়া হল দুই ধরণের প্রশ্নপত্র দিয়ে। একই উপজেলার ছাত্রছাত্রীরা চম্পা ও পদ্মা নামক দুই প্রকার প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা দেয়ায় শুধু শিক্ষার্থীরাই নন ক্ষুদ্ধ শিক্ষকরাও। অভিযোগ উঠেছে ওই দুই সেট প্রশ্নপত্রের মধ্যে একটি ফাঁস হলেও রহস্য জনক কারণে সেই সেট দিয়েই পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দুটি কেন্দ্রের দায়িত্ত্বরতরা একে অপরকে দায়ী করছে।
জানা যায়, বুধবার সারাদেশে একযোগে এইচএসিসি বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন ১ম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় হাতীবান্ধার দৃুটি কেন্দ্রের মধ্যে আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজে চম্পা নামক প্রশ্নপত্র ও মহিলা ডিগ্রী কলেজে পদ্মা নাম প্রশ্নপত্র সেট দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষার্থীসহ কলেজ শিক্ষকরাও হতবাক হয়ে পড়েন।
পরীক্ষা কেন্দ্র সুত্রে জানা যায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আশংকায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড কতৃক ইতোপূর্বে পাঠানো চম্পা নামক প্রশ্নপত্র সেটটি বাতিল করে। ফলে মঙ্গলবার পদ্মা নামক নতুন প্রশ্নপত্র সেট আসে হাতীবান্ধায়। সেই কারণে মহিলা কলেজ কেন্দ্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মেনে নতুন করে আসা পদ্মা নামক প্রশ্নপত্র সেট দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছে বলে দাবি কেন্দ্র সচিবের।
তবে হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজের কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খাঁন জানান, তাঁর কেন্দ্রে চম্পা নামক প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে ঠিকই। তবে তা কোন দোষের নয় বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে থাকা হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রের সচিব অধ্যক্ষ সামশুল হক জানান, একই উপজেলার দুই প্রকার প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহনের বিষয়টি তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।  সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মেনেই তাঁর কেন্দ্রে চম্পা নামক সেটের পরিবর্তে পদ্মা নামক প্রশ্নপত্র সেট দিয়ে রসায়ন ১ পত্রের পরীক্ষা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে এইচএসসি রাসায়ন ১ম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের ফটোকটি টাকার বিনিময়ে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। মঙ্গলবার রাতভর ওই প্রশ্নপত্র আসল না নকল এনিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় চম্পা সেটের প্রশ্নপত্রের সাথে এর অনেকাংশে মিল পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
ওই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রী কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
জানা যায়, হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রী কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক সামসুল আলম মঙ্গলবার রাতে ওই প্রশ্নপত্রের ফটোকপি প্রথমে তার প্রাইভেট পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সরবারহ করেন। পরে এটি ফটো কপির মাধ্যমে গোটা জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
হাতীবান্ধা মহিলা কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক সামসুল আলম প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রছাত্রীরা কোথায় প্রশ্ন পেয়েছে তা তিনি জানেন না। তবে মঙ্গলবার রাতে ছাত্রছাত্রীদের কেউ কেউ তার কাছে রসায়ন বিষয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর ঠিক করে নিয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ