• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কার্বাইডে পাকানো ফল খেলে স্বাস্থ্যহানি হতে পারে

mango-0020140515131924স্বাস্থ্য ডেস্ক: বাজারে ছেয়ে গেছে পাকা আমে। কিন্তু তার স্বাদ নেই এসব আমে। বাজার থেকে কিনে আনলেন পাকা পেঁপে কিন্তু কাটার পর দেখলেন খারাপ গন্ধ। পাকা কলার রং দেখেই কিনলেন। খোসা ছড়িয়ে মুখে দিতেই টের পাওয়া গেল কলা আসলে পাকেনি, পাকানো হয়েছে। এখন কাঠালও আর কিলিয়ে পাকাতে হয় না।

বহু বছর ধরে এভাবেই ক্রেতাদের ঠকানোর কাজটি করছেন একশ্রেণির ফল বিক্রেতা। আর তারা এই কাজ করতে গিয়ে ব্যবহার করছেন বিভিন্ন ধরনের কার্বাইড। বিশেষ করে টমেটো পাকাতে ও সংরক্ষণে কার্বাইড হয়ে উঠেছে অপরিহার্য উপাদান। ফল বিক্রেতারা বলে থাকেন এটা ছাড়া তাদের ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তবে সাম্প্রতিককালে কার্বাইড দিয়ে ফল পাকানোর প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্বাইডে পাকানো ফল খেলে শরীরে পুষ্টি তো যায়-ই না, উপরন্তু এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে ।

যা দিয়ে এই কাজটি করা হয় তার নাম ক্যালসিয়াম কার্বাইড। বাতাসের সংস্পর্শে এলে কার্বাইড থেকে অ্যাসিটিলিন নামে এক ধরনের গ্যাস বেরোয় । তার উত্তাপেই ফল পেকে যায়। ওই গ্যাসই লোহার কারখানায় লোহা কাটার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই রাসায়নিক দিয়ে এখন পাকানো হচ্ছে ফল যা মানুষ খেয়ে থাকেন।

কীভাবে ফল পাকানো হয় কার্বাইডে। এটি কীভাবে এত দ্রুত কাজ করে। এসব প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই অজানা। ফল ব্যবসায়ীরা জানান, ৫০ টন আমের একটি বড় বাক্সে ১০০ গ্রামের মতো কার্বাইড ভরে দেওয়া হয়। কখনও আবার ছোট একটা ঘরের মেঝেতে ফল বিছিয়ে ঘরে নির্দিষ্ট পরিমাণে কার্বাইড ভরে ঘরের দরজা বন্ধ করা হয়। ৬ ঘন্টা পরে খুললেই দেখা যাবে ফলে রং ধরেছে। আর একেবারেই কাঁচা ফল পাকাতে কয়েকদিন সময় লাগে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাজারে এখন যেসব মৌসুমী ফল পাওয়া যাচ্ছে তার পুরোটাই কাবাইড দিয়ে পাকানো। এসব কিনেও খাচ্ছে মানুষ।

ফল বিক্রেতারা বলেন, ফল পাকানোর একটা বিকল্প পদ্ধতিও আছে। ইথাইলিন নামের একটি তরল রাসায়নিক মিশ্রণে ফল ডুবিয়ে রাখা হয়। তার পরে ঠান্ডা পানিতে চুবিয়ে ‘এয়ার টাইট’ বাক্সে ভরে রাখা হয়। এতে দিন কয়েকেই ফল পেকে যায়। কৃত্রিমভাবে পাকানো ফলই মুলত বাজারে বেশি বিক্রি হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন , কার্বাইডে পাকানো ফল নিয়মিত খেলে পরিণতি হতে পারে মারাত্মক। মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া, পাকস্থলীর নানা সংক্রমণের পাশাপাশি কার্বাইড থেকে ক্যানসারও হতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের একটি অংশের। সন্তানসম্ভাবা কোনো নারী একটানা কার্বাইডে পাকানো ফল খেলে সন্তান কিছু অস্বাভাবিকতা নিয়ে জন্মাতে পারে।

কৃষি বিজ্ঞানী সাখাওয়াত হোসেন মুকুল বলেন, কার্বাইডে পাকানো ফল চেনার সহজ উপায় হচ্ছে ফলে রসুনের মতো গন্ধ হবে। গোটা ফলটার রং হবে একই রকম। ফলের উপরে উজ্জলতা ও মসৃন ভাব দেখা যাবে। সর্বোপরি পাকানো ফল হবে শক্ত।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আরো বলেন, কার্বাইডে পাকানো ফল খেলে ক্যানসার, স্নায়ুর জটিলতা, মাথা ব্যথা হবে, ঝিমুনি আসতে পারে, হজমের গণ্ডগোল দেখা দিতে পারে, বিভিন্ন গ্রন্থিতে ব্যথা হতে পারে এবং স্মৃতিভ্রষ্টতা দেখা দিতে পারে। অনেকেই এখন এসব সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান।

ভারতীয় ফল বিজ্ঞানী উৎপল সান্যাল সম্প্রতি এক জার্নালে লিখেছেন, পৃথিবীর বেশ কিছু দেশ কার্বাইডের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে এর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণেই। বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে এই রাসায়নিক। এর তীব্রতার কারণেই কাঁচা ফল পাকে। তবে এশিয়ার দেশগুলিতে কাবাইড আমদানি ও ব্যবহার এখনো কমেনি।

কাগজে-কলমে খাবার জিনিসে কার্বাইড ব্যবহার নিষিদ্ধ। ফল পাকানোর জন্য কার্বাইড ব্যবহার করলে জরিমানা ছাড়াও জেলও হওয়ার কথা। কিন্তু কোথাও- তা মানা হয় না। আবার স্বাস্থ্য বিভাগও এসব সচেতনভাবে দেখে না।

কী ভাবে সচেতন হবেন মানুষ? একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, ফল খাওয়ার আগে ভালভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। খোসা সমেত ফল না খাওয়াই ভাল। নির্দিষ্ট মৌসুমের আগেই কোনও ফল কেনা উচিত নয়। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচার আরো বাড়ানো প্রয়োজন- মনে করেন সচেতন নাগরিকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ