• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরের মেধাবী মুখ সুনিতা ও রোজী পড়াশুনা অনিশ্চিত

Sunitaএম আর মহসিন, সিসিনিউজ: হতদরিদ্র দুই পরিবারের কন্যা সুনিতা ও রোজি। মজুর পিতার অনিয়মিত আয়ে দু’বেলা আহার জুটতো না তাদের। তাই মায়ের সাথে চড়কিতে সুতা গুছিয়ে ও সেলাইয়ের কাজ করে কোন রকম জীবিকা চলত। আর এর মাঝে পড়ালেখা চালিয়ে এ দুই মেধাবী কন্যা এবারের এসএসসি পরীায় নীলফামারীর সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে শিক্ষকসহ বাবা-মা’র মনে আনন্দের বন্যা বইলেও এ প্রতিভাদ্বয় শংকিত তাদের আকাঙ্খিত উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের অব্যবস্থাপনা নিয়ে। কারণ অভিভাকদের আর্থিক সংগতি নেই। তাই এ মেধাবীদ্বয় সমাজ রাষ্ট্রের কাছে আকুল আবেদন করছেন আর্থিক সহায়তার।
শহরের ১০নং ওয়ার্ডের মৃধাপাড়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন আকতার আশরাফি। পেশায় ডেকোরেটর শ্রমিক। তার অনিয়মিত আয় দ্বারা ঠিকমতো আহার দুবেলা আহার জুটে না তার ৫ সদস্যের পরিবারের। তাই তার স্ত্রী ফারজানা বেগম ও বড় মেয়ে রোজি নিজ বাড়িতে চড়কি সুতা গুছিয়ে সপ্তাহে ২ থেকে আড়াইশত টাকা আয় করেন। আর এ আয় দ্বারা চলে কোন রকম বেঁচে থাকা। আকতার আশরাফি জানান, বড় মেয়ে রোজি আক্তার ছোটবেলা থেকে তার মায়ের সুতা গোছানোর কাজ করত। পাশাপাশি লেখাপড়াও করত। এভাবে ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উঠার পর বিনে পয়সায় ভর্তি করি আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে। সেখানে শিক্ষকসহ সকলের সহযোগিতায় আজ সে এসএসসি পাশ করল।Rozi
রোজির মা ফারজানা বেগম জানান, বিজ্ঞান বিভাগে দেওয়ায় প্রাইভেট চেয়েছিল কিন্তু দিতে পারিনি। তারপরেও সে ভাল ফলাফল করেছে। কিন্তু আমরা শংকিত আগামী দিনগুলি নিয়ে। মেধাবী রোজি জানায়, ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার নয়, আমি অনাহারি মা বাবাকে সুখ দেয়ার জন্য পড়তে চাই। কিন্তু আমাকে কে পড়াবে? কে বা খরচ যোগাবে। ওই বিদ্যালয়ের রোজির সহপাঠি সুনিতার পারিবারিক অবস্থাও একই। সে ডাক্তার হতে চাইলেও তার বাবা-মা’র পে আর্থিক সংকুলান সম্ভব নয় বলে জানান এ মেধাবী শিক্ষার্থী। তাই এ দুই প্রতিভার উচ্চাকাঙ্খা অর্থের কারণে থমকে যাবে। আর মেধা থাকলেও ঘটবে না পরিস্ফুটন। এমনি শংকায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে এ দুই শিক্ষার্থী সমাজের বিত্তবানসহ সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছেন আর্থিক সহায়তার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ