সিসিনিউজ: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জাড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যে কোনো দিন চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে। আর এর পূর্ব প্রস্তুতি হিবেবে রায় পরবর্তী সম্ভ্যাব্য নাশকতা ঠেকানো প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ধারণা করা হচ্ছে- জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত শক্ত- এমন সব জেলায় বড় ধরনের সহিংসতার আশ্রয় নিতে পারে তারা। হাইকমান্ডের নির্দেশে এবার তারা বেশি শক্তি দেখাতেও চেষ্টা করতে পারে। জামায়াত-শিবিরের এ ধরণের গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা।
সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমেদ, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। বৈঠকে জামায়াতের শীর্ষ এ দুই নেতার রায় ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কিত আগাম গোয়েন্দা তথ্য এবং করণীয় নিয়ে আলোচনা শেষে কিছু জরুরি সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- মহানগর ও জেলার সংশ্লিষ্ট থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, জামিন পাওয়া দুর্র্ধষ শিবির ক্যাডারদের তালিকা চূড়ান্ত করা, রায়ের আগের দিন থেকে পরবর্তী ১৫ দিন কঠোর নিরাপত্তা বলবৎ রাখা, শিবিরের আত্মঘাতী স্কোয়াডকে চিহ্নিত করা, পুলিশের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা। এ ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অগ্রগতি, আসামিদের অবস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, জামায়াত-শিবির প্রভাবিত সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেটসহ ৩৪টি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও মেট্রোপলিটন এলাকার কমিশনারদের কাছে করণীয় সম্পর্কে চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, চিহ্নিত জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকা, প্রয়োজনে বিজিবি মোতায়েন ও টহল জোরদার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ, সাক্ষী, ভিভিআইপি ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, হিযবুত তাহরীর, জেএমবি, হরকাতুল জিহাদসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন জামায়াত-শিবিরের পৃষ্ঠপোষকতায় যাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না চালায় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।
পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আজমি, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে আবদুল মোমেন নিজামি, মীর কাসেমের ছেলে আরমান বিন কাসেম, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী ও রফিক সাঈদীর কর্মকাণ্ড এবং গতিবিধি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, কারাগার থেকে জামিন নেয়া জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের পরবর্তী কার্যক্রম পরীক্ষা করা হচ্ছে। কারোর বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাঈদী ও নিজামীর রায়-পরবর্তী সব পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।