• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সরকার-জামায়াত আপসের আলামত!

Jamatঢাকা: সরকার ও জামায়াত আপস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য সরকারের সঙ্গে জামায়াতের আপসকামিতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, জামায়াতের বিচার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হকের বক্তব্যে বোঝা যায় সরকার ও জামায়াতের মধ্যে আপসকামিতার পথ তৈরি হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে সরে যাচ্ছে।
ডা. ইমরান বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। তিনি ২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বলেছিলেন, এ আইনের মাধ্যমেই জামায়াতের বিচার করা সম্ভব। আর এখন বলছেন, বর্তমান আইনে বিচার করা সম্ভব নয়। এতে বোঝা যায় সরকার ও জামায়াতের মধ্যে একটা সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। এখনই আমরা স্পষ্টভাবে বলছি না যে, তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা আশঙ্কাই করছি।
গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় ডা. ইমরান বলেন, জামায়াতের বিচার প্রশ্নে সংশোধনী প্রয়োজন হলে তা করা তো কঠিন কিছু নয়। এখন সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে তারা জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন কিনা।
২৯ মে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেন, জামায়াতের বিচারে শাস্তি কি হবে এবং শাস্তি কে ভোগ করবে বিষয়টি ভাবতে হবে। কারণ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোন সংগঠনের বিচার বা শাস্তির বিধান নেই। আমাদের প্রচলিত আইনে (কোম্পানি আইন) সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শাস্তি হলে শাস্তি ভোগ করতে হয় পরিচালনা পর্ষদের। এক্ষেত্রে জামায়াতের সাজা ভোগ করবেন তাদের নেতারা। ইতোমধ্যে নেতাদের অনেকের বিচার হয়েছে। সুতরাং একই ব্যক্তির দুবার বিচার কিভাবে করা যায়?
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একটি মামলা চলমান অবস্থায় আরেকটি মামলা চলে কিভাবে? আইনমন্ত্রী আইনের দিক দিয়ে বাস্তবসম্মত কথাই বলেছেন। আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের মাঝে সরকার ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ আশঙ্কা আমাদেরও। আর সরকার যদি জামায়াতের বিচার করে আমরা তাদের সাধুবাদ জানাবো। বিচার না করলে মানুষের আশঙ্কা আরও শক্ত হবে। মানুষ মনে করবে সত্যি সরকার বিচার থেকে পিছু হটছে।
ডা. ইমরান বলেন, আমাদের দাবি স্পষ্ট। ৬ দফা দাবিতে আমরা রাজপথেই থাকবো। এতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে আন্দোলনের মাধ্যমেই আদায় করা হবে। সরকার আমাদের দাবির প্রতি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আমরা আমাদের দাবিতে অনড়। রাজপথ ছাড়া আমরা বিকল্প কিছু ভাবছি না।
সরকার আন্দোলনে বাধা দিলে কি করবেন জানতে চাইলে ডা. ইমরান বলেন, বাধা দিলে আমরা নতুন করে চিন্তা করবো। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে গণজাগরণ মঞ্চ।

সকাল ১০টায় শাহবাগ থেকে যাত্রা শুরু হবে। কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হলে কি করবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব কিছু করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কোন কর্মসূচি আছে কিনা জানতে চাইলে ডা. ইমরান বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা কোন কর্মসূচি দেইনি। সোমবারের কর্মসূচির পর আমরা নতুন করে চিন্তা করবো। আন্দোলন দেশব্যাপী পৌঁছে দিতে ২৭ মে থেকে শুরু হয়েছে ‘গণজাগরণ ঘরে ঘরে’। আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। রবিবার রাজধানীর শ্যামলী, আদাবর, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল, মাজার রোড ও গাবতলী এলাকায় কর্মসূচি পালন করেছেন মঞ্চের কর্মীরা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ২০১৩ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ রায়ের প্রতিবাদে ওই দিন শাহবাগে অবস্থান নেয় ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক। ২০১৩ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি স্পিকারের কাছে ব্লগাররা ৬ দফা দাবি জানান। এরপর থেকে ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে জাগরণ মঞ্চ।

ঢাকাটাইমস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ