• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ব্রহ্মপুত্রের থাবায় হারিয়ে গেল রৌমারীর খেদাইমারী বাজার

IMG_4691ফয়েজী, রৌমারী (কুড়িগ্রাম): রৌমারী উপজেলার খেরুয়া থেকে খেদাইমারী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুরে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে গত ৭দিনে খেদাইমারী গ্রাম, বলদমারা, ঘুঘুমারী ও খেরুয়া এলাকার ৪শ’ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।গত সোমবার থেকে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে  এই ভয়াবহ ভাঙ্গনের শুরু হয়। খেদাইমারী গ্রাম বিলীণ হওয়ার পর ব্রহ্মপুত্রের থাবায় খেদাইমারী হাটবাজার নিশ্চিন্নের পথে। এরই মধ্যে বাজারের সিংহভাগ নদে হারিয়ে গেছে। বাজারে সরকারি দুইটি হাটশেট ছিল তার একটি নিশ্চিন্ন অন্যটিও প্রায় শেষ।  দেড় শতাধিক দোকানপাট ভেঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের জানান, ভাঙ্গনে এরই মধ্যে খেদাইমারী হাটবাজার বিলীন হয়ে গেছে, ও চারশ’ পরিবার হারিয়েছে তাদের ঘরবাড়ি । বিষয়টি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুড়িগ্রাম অফিসকে লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে। সঙ্গে জরুরী ভাবে অস্থায়ী ভিত্তিতে হলেও ভাঙ্গন প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানানো হয়।
সরেজমিনে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানুষজন ঘরবাড়ি-দোকানপাট সরিয়ে নিচ্ছে। খেদাইমারী গ্রামের সুরুজ্জামান বলেন, ‘‘অনেক নদী ভাঙ্গন দেখেছি, কিন্তু এবা কইরা যে নদী ভাঙ্গে, মুহুর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার চিত্র আগে কখনও দেখি নাই”।’ একদিনেই খেদাইমারী বাজার বিলীন হয়ে গেছে বলে জানান ওই বাজারের ব্যবসায়ি আজগর আলী মন্ডল। তিনি বলেন, ‘দোকান ঘর ভাইঙ্গা সরাবারও সময় পাই নাই। হাটবাজারটি এখন নদীর গর্ভে চলে গেছে।’
খেদাইমারী এলাকার বেসরকারি সংস্থা সিএসডিএ’র পরিচালক আবু হানিফ বলেন ‘সাতদিন আগে আমি ঢাকায় গেছি। চারদিন পর ফিরে আইসা দেখি সব ওলটপালট হয়ে গেছে। নিজের গ্রামটিও খুঁইজা পাই না। এটা কিবা নদী ভাঙ্গনরে বাবা !’ সংশ্লিষ্ট এলাকার মেম্বার আব্দুর রহিম জানান, নদী ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি হারা প্রায় দুই হাজার মানুষ এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি আর খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে।
ভাঙ্গনে প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড) কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের বলেন, ‘না, ভাঙ্গনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের প্রকৌশলীরা ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ